হাওয়া (Hawa) সিনেমার পাবলিক রিভিউ

Hawa movie review




হাওয়া সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 1

রিভিউ লিখেছেন- Habibur Rahman Khan Arif

 "এই দরিয়ায় কত্তো কাহিনী হয়

কিন্তু তুই তো জ্যান্ত মাইয়া মানুষ"

দেখে নিলাম এ বছরের তুমুল হাইপ তোলা সিনেমা 'হাওয়া'। এই সিনেমা শেষ করে বেশ পজিটিভ একটা মাইন্ড নিয়ে হল থেকে বের হয়েছি। বাকিদের কেমন লেগেছে সেটা বোঝার জন্য সিনেমা শেষে সকলের সম্মিলিত হাততালি এবং হল থেকে বের হয়ে মানুষের মুখে মুখে 'সাদা সাদা কালা কালা' গানটা শুনতে পাওয়াই যথেষ্ট। তাহলে শুরু করা যাক.......

[নো স্পয়লার]

সিনেমার নামঃ হাওয়া

অভিনয়েঃ চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সোহেল মন্ডল, সুমন আনোয়ার, নাসির উদ্দিন খান, মাহমুদ আলম, রিজভী রিজু, প্রমুখ

জনরাঃ ডার্ক থ্রিলার(ফ্যান্টাসি)

ব্যাপ্তিঃ ২ ঘন্টা ১০ মিনিট

প্রথমে স্পয়লার না দিয়ে কাহিনীটা ছোট করে বলি। একদল জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে সমুদ্র থেকে একটা মেয়েকে উদ্ধার করে। মেয়েটা বোটে আসার পর অন্যরকম সব ঘটনা ঘটতে থাকে। এই মেয়েটা আসলে কে??? এই বোটে আসাটা কি নিতান্তই কাকতালীয়??? এর পেছনে কি অন্য কোনো গল্প আছে!!!

সিনেমার প্রথম হাফ মুটামুটি ভালো। সেকেন্ড হাফ বেশ এনগেজিং। বিশেষ করে ক্লাইমেক্স তো মারাত্মক লেভেলের ভালো ছিলো।

সিনেমায় অভিনয় করা সবাই বাঘা বাঘা অভিনেতা। প্রথমেই বলতে হয় চঞ্চল চৌধুরীর কথা। এই লোককে দিয়ে যেকোনো চরিত্র করানো যাবে। ওনাকে এতো পারফেক্ট লাগছিলো যে কি বলবো! এই ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে ওনার। তারপর বলবো নাজিফা তুষির কথা। বাপ্রে, মনে হচ্ছিলো চোখ দিয়েই ঘায়েল করে ফেলবে! এক্সপ্রেশনগুলো এত্তো ভালো ছিল যে একটা সময় এই চরিত্রটাকে ভয় লাগা শুরু করবে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেনো চঞ্চল চৌধুরীকেও ছাড়িয়ে গেছেন উনি। 'আইসক্রীম'র পর ওনার ঝুলিতে আরও একটা ভালো প্রাপ্তি যুক্ত হলো। শরিফুল রাজ ভালো। নাসির উদ্দিন খান তো পুরাই জোশ। উনি স্ক্রিনে আসলেই মানুষ বিনোদন পায়। ওনার চরিত্রটা খুবই ভালো ছিল। সুমন আনোয়ারকে 'নবাব এলএলবি'তে খুব একটা ভালো লাগেনি। কিন্তু এখানে উনি অভিযোগ করার জায়গা রাখেননি। সোহেল মন্ডল বেশ ভালো। মাহমুদ আলম নিজের জায়গায় ভালো।রিজভী রিজু ভালো। বিশেষ করে রিজভী রিজুর লাস্ট দৃশ্যটুকু খুবই ভালো ছিল।

এই সিনেমার কারিগরি দিকেই টপ ক্লাস কাজ হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি দুর্দান্ত। কালার গ্রেডিং খুবই ভালো। পানিতে নেওয়া শটগুলো বেশ স্পষ্ট। এই সিনেমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো হলে বসা দর্শকদের একসাথে 'সাদা সাদা কালা কালা' গান গাওয়াটা। এছাড়াও বিজিএম বেশ ভালো ছিলো।

এতোসব প্রাপ্তির পরও কিছু জিনিস ভালো লাগেনি। সিনেমার প্রথম দিকে সংলাপের সাউন্ডের তুলনায় অন্যান্য সাউন্ড হাই ছিল, বৃষ্টির সিনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এটা সিনেমা হলের সমস্যা কিনা জানিনা। শরিফুল রাজের অভিনয় ভালো। তবে কেন জানিনা 'আরও একটু ভালো হতে পারতো' মনে হচ্ছে। ট্রেলার দেখেও আন্দাজ করা যায় যে নাজিফা তুষির ক্যারেক্টারটা রহস্যময়, কিন্তু তবুও এই চরিত্রটা আরও একটু বিল্ড আপ করা উচিত ছিল।  

সবমিলিয়ে এই ছিল আমার দৃষ্টিতে 'হাওয়া'। সবশেষে একটা কথাই বলবো- সিনেমা হলে যান, 'হাওয়া' খেয়ে আসুন। কারণ এরকম সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা সচরাচর পাওয়া যায়না

হাওয়া সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 2

রিভিউ লিখেছেন- Prottoy Debnath

HAWA 
'নো স্পয়লার'
আয়নাবাজির পর এই প্রথম কোনো বাংলা সিনেমার এত হাইপ দেখলাম। হাওয়া ফিল্মটা কমার্শিয়াল ফিল্ম না, তবে শতভাগ ভালো সিনেমা।
রিভিউ নয়, অনুভূতি লেখলাম...
সিনেপ্লেক্স এর এসকেএস টাওয়ার শাখায় ৫০০/- টিকেট দিয়ে দেখা লাগলো হাওয়া। 
চঞ্চল দা যে ঢালিউডের সেরা অভিনেতা তা তিনি আর কতবার প্রমাণ করবেন? মনপুরা, আয়নাবাজি, দেবীর পর হাওয়া আরেকটি উদাহরণ। মাঝির চরিত্রে দারুণ অভিনয় তিনি দেখালেন।
সমুদ্রের এই যাত্রায় ছিল এক স্নিগ্ধতা। তুষি যেটাকে আরো বাড়িতে দিয়েছেন। হাওয়া দেখে মনে হচ্ছে ব্রহ্মাস্ত্রতে জলদেবী চরিত্রে তুষিকে নিলে ভালো হতো।
হাওয়ার শুটিং পুরোপুরি রিয়েলিস্টক। ভিএফএক্স এর কাজ কম। তবে রাধেশ্যাম এর চেয়ে কম যায়না জাহাজ আর সাঁতারের সিনগুলা।
সাপোর্ট কাস্টে সবাই ভালো অভিনয় করেছেন। মিউজিক মানানসই লেগেছে সিনেমার সাথে। মুভি সিনেমাটোগ্রাফি চমৎকার সাথে কালার টোন টাও মনে ধরেছে।
ডিরেক্টর এর ১ম মুভি হিসাবে দূর্দান্ত কাজ করেছে বলতে হবে।
অবশেষে বাংলা সিনেমায় নতুন এক কাজ। সবার দেখা উচিত প্রিয়জনের সাথে।
কমার্শিয়াল মুভি না হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে নেগেটিভিটির ছড়াছড়ি। কারো কথায় বিশ্বাস না করে নিজে দেখে বিচার করুন আপনার কেমন লাগলো হাওয়া।

হাওয়া সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 3

রিভিউ লিখেছেন- রহমান মতি

* নো স্পয়লার *
জলপথে রহস্যের 'হাওয়া'
**********************
একটা জলপথ। সমুদ্রের জলপথ। একটা বোট। মাছ ধরছে জেলেরা। অনেক আনন্দ। জলের ঢেউয়ে এগিয়ে চলেছে বোট। ঢেউ আছড়ে পড়ছে বোটের গায়ে। দেখতে লাগে ভালো। 
হাওয়া। কিসের হাওয়া? একেবারে দুই রকমের হাওয়া। এক সামুদ্রিক হাওয়া দুই রহস্যের হাওয়া। একটা রহস্য শুরু হয়েছে। এর কিনারা কোথায়? 
অন্য সব বোটে অনেক মাছ ধরা পড়ছে কিন্তু এ বোটে কেন ধরা পড়ছে না! তবে কী মাছেরা এ বোটের সাথে আড়ি পেতেছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে? 
বোটের মধ্যে একটা নতুন হাওয়া লেগেছে। কোথাকার জল কোথায় গড়াচ্ছে কেউ বুঝতে পাচ্ছে না। একবার এই বিপদ তো ঐ বিপদ কিন্তু বিপদের কান্ডারি কে? 
বোটের মালিকের মাথা গরম। একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে এবার। কিন্তু তাতে কি শাপে বর হবে নাকি শিরে সংক্রান্তি! 
জলপথে কি প্রেম হয়? মানুষ যেহেতু বাস করে জলপথে প্রেম তো হতেই পারে। জল সাক্ষী, হাওয়া সাক্ষী, আকাশটা সাক্ষী কিন্তু প্রেমের ধরনটা কেমন! বলে দেবো? না, ছবি দেখে জানাই কি ভালো না! 
সমুদ্রের জল জোয়ার-ভাটায় আচরণ করে থাকে। ভাটার পর জোয়ারের উত্তাল হাওয়া শুরু হলে যেমন ভয়ের কারণ থাকে বোটের ভেতরেও ভয়ের পরিবেশ আসতে থাকে। একটার পর একটা বদ হাওয়া, বোটের মালিকের ভাষায় 'কালা জাদু'। 
'ভয় পাচ্ছিস?' বোটের মালিকের কথায় বিপরীতে থাকা অভিনয়শিল্পীই কী ভয় পাচ্ছে, মনে তো হবে আপনিও ভয় পাচ্ছেন দর্শক। এই না হলে অভিনয়! 
ছবির শেষটা কী ছিল মশাই? এ তো অলৌকিক হাওয়া। যা মাথায় আসবেই না কোনোভাবে সেই ঘটনা ঘটে গেল! যে হাস্যরসে ছবির অর্ধেকটাই মেতে থাকবে দর্শক শেষে এসে আচমকা ধাক্কায় নীরব করে দেবে। ছবির বাঁক তো এমনই হবার কথা। 
গালি দেয় সবাই ছবিতে। আপত্তির কিছু নেই। যারা যেভাবে কথা বলে তারা তো সেভাবেই বলবে। ওটাই তাদের ভাষা। 
অভিনয়! কেউ কারো কম না। কী চঞ্চল চৌধুরী, কী শরিফুল রাজ, কী নাজিফা তুষি, কী নাসির উদ্দিন, কী সোহেল মণ্ডল, কী সুমন আনোয়ার! সবাই নিজেদের জাত চেনাল। ছবি হয়ে গেল সম্মিলিত জাত অভিনয়ের। 
ক্যামেরা! সূর্যরশ্মির সাথে সমুদ্রের জলের ওঠানামার তরঙ্গ, জোছনা রাতে সমুদ্রের কাব্যিকতা, জলের ভেতর তিমির অবগাহন সব খেলে বেড়াচ্ছে ছবি জুড়ে। আহা! যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। 
'সাদা সাদা কালা কালা' তো এখন জনগনের গান। ওটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। 
মেজবাউর রহমান সুমন?
তিনি তো আরো আগেই এলে পারতেন চলচ্চিত্রে। এলেনই যখন চলচ্চিত্রের পালে নতুন হাওয়া নিয়েই এলেন। এ হাওয়া তার নিজস্ব। 
চোখের শান্তি পেতে 'হাওয়া' দেখে ফেলুন তবে। 
রেটিং - ৮.৫/১০

হাওয়া সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 4

রিভিউ লিখেছেন- Israt Zahan

#HAWA
NO SPOILER
কখনো কোনদিন বাংলা সিনেমা দেখার জন্য এত বেশি উত্তেজনা কাজ করেনি যতটা হয়েছে হাওয়া নিয়ে। ট্রেইলার আর গান  দেখে খুব ইচ্ছে হলো প্রথম দিনেই সিনেমা দেখবো। পুরোপুরি ব্যক্তিগত মতামত এটি আমার।
যাইহোক,
আমার কাছে সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে আমি মাঝিদের সাথেই আছি।চারদিকে সমুদ্রের নীল পানি। কালার গ্রেডিং অসাধারণ।
প্রত্যেকের অভিনয়ও অনেক ভালো লেগেছে তবে ২/১ জন এক্টরকে অভিনয় করার তেমন কোন স্কোপ দেয়া হয়নি বলে মনে হয়েছে।
ডায়লগ আর শরীরী অভিনয় অনেক হাসিয়েছে। 
কিন্তু একটা জিনিসেই অনেক হতাশা কাজ করেছে, প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাইনি। গল্প নিয়ে ডিরেক্টর আরেকটু মনোযোগ দিলে মনে হচ্ছে অন্য লেভেলের কিছু একটা পেতো দর্শক। 
তবে নিজেকেই দোষ দিয়েছি এতটাও আশা করা মনে হয় ঠিক হয়নি।
বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেক উপভোগ্য সিনেমা তবে  বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে যাওয়া উচিত না।
ধন্যবাদ!!

হাওয়া সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 5

রিভিউ লিখেছেন- Mahmud Niloy

#হাওয়া_রিভিউ
Spoiler free....
"হাওয়া" নিয়ে কথা বলতে হলে শুরুতেই আসলে বলতে হবে এই মুভির অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির কথা।এই মুভির সিনেমাটোগ্রাফি এককথায় আন্তর্জাতিক মানের।মুভির কিছু কিছু শট আছে,যেমন ধরুন সাগরে নোঙর ফেলার একটা দৃশ্য,সাগরে বোটটা ছাড়ার সময়ের একটা ড্রোনশট,আর ট্রেলারে দেখানো বোট এর নিচে মাছ ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যটা ইত্যাদি শট গুলা আর সিনেমাটোগ্রাফি টা দেখলে আপনার এই ছবি নিয়ে গর্ব হবে। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন এর ভিশন আর সেটা পরিপূর্ণ ভাবে পর্দায় তুলে ধরার জন্য চিত্রগ্ৰাহক কামরুল হাসান খসড়ু তাদের দুজনেরই অভিবাদন প্রাপ্য।
এবার আসি মুভির কাহিনী তে।আপনি যদি ধরে রাখেন "হাওয়া" আপনাকে মুহুর্তে মুহুর্তে থ্রিল দিবে,টুইস্ট দিবে তাহলে কিছুটা আশাহত হবেন।এই মুভি আপনাকে সাগর এর জেলেদের জীবনের সাথে পরিচিত করাবে।সাগরে কিভাবে দিনের পর দিন তারা মাঝদরিয়ায় দিনাতিপাত করে,কখনো কখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যুদ্ধ করে,নানা রহস্য,রেষারেষি করে বেঁচে থাকে তা দেখাবে,কতো মানুষের জীবনে জোয়ার-ভাটা কতো বড় নির্ণায়ক তা দেখাবে।আর পুরো সময় এক আহুত রহস্যে ঘিরে রাখবে আপনাকে।আপনি পুরো সময়ই ভাববেন কাহিনী কি,রহস্য টা কি এবং যখন তা আসবে তখন সব খুব দ্রুত ঘটে যাবে,আপনার ধরতেই কিছুটা সময় লেগে যাবে।মুভির কমিক টাইমিং গুলা সেরা,সবচেয়ে নিরস দর্শককেও এ মুভি হাসাবে।সর্বোপরি এই মুভিটা অনেক আর্টিস্টিক একটা মুভি,তাই মুভির কাহিনী অনেক সাধারণ দর্শকের কাছে অতো আকর্ষণীয় নাও লাগতে পারে,কিন্তু একথা বলাই যায় যে মুভির বাকি সবকিছু আপনার মধ্যে এই অনুভূতি আসতেই দিবে না।আর মুভির শেষ আধাঘন্টা আপনাকে আপনার সিটের কোণায় নিয়ে আসতে বাধ্য করবে।তবে মুভির কাহিনীর সবচেয়ে দূর্বল অংশটা হচ্ছে যে মুভির climax টা যখন আসে তার জন্য একটা Backstory থাকে। কিন্তু হয়তো মুভির পরিধি ছোট রাখার জন্য পরিচালক সেই Backstory টাতে যান নি।তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এই Backstory টা পুরোপুরি ভালোভাবে দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
এবার আসি অভিনয়ে।ছবির মূল চরিত্রে বোট এর সব মানুষগুলো।
"উরকেস" চরিত্রে অভিনেতা সোহেল মন্ডল আসলে সেভাবে তার অভিনয় দক্ষতা ফুটিয়ে তোলার সুযোগ পাননি,তবে স্বল্প সময়েও তিনি নিজের পর্দা উপস্থিতি টের পাইয়েছেন।
"পারকেস" চরিত্রে রিজভী রিজু সেরা অভিনয় করেছেন।
বোটের সবচেয়ে বুড়ো মানুষের চরিত্রে বাবলু বোস আর হালকা ভবঘুরে চরিত্রে মাহমুদ আলম একদম নিখুঁত।
Sumon Anowar বরাবরই একজন শক্তিশালী অভিনেতা।বর্তমানে ওটিটি আর ভালো ভালো মুভির কারণে এই লোক তার প্রাপ্য ভালোবাসা টা পাচ্ছেন দর্শকের কাছ থেকে।"এজা" চরিত্রে তিনি আরো একবার নিজেকে প্রমাণ করলেন।বিশেষত নেতিবাচক চরিত্রে যে তার তুলনা হয় না তাই আরেকবার বোঝালেন।
নাসির উদ্দিন খান মহানগর,সিন্ডিকেট,রেডরাম,পরাণ যারা দেখেছেন তারা এই মানুষটাকে না চিনে পারেনই না।ব্যক্তিগতভাবে এই মানুষের অভিনয়শৈলী তে আমি মুগ্ধ।"নাগু" চরিত্রে তার একেকটা ভাব-ভঙ্গিমা,হাসি,কথা বলা,কমিক টাইমিং আপনার পেটে খিল ধরাবে,একইসাথে তার "High" হওয়ার আর ভয় পাওয়ার অভিনয়টা OP পুরা।
Nazifa Tushi ব্যক্তিগতভাবে আমার অনেক পছন্দের একজন অভিনেত্রী এটা আমার ফিড এ ঢুকলেই বোঝা যায়(XD)।"গুলটি" চরিত্রে তার অভিনয় ভালো হয়েছে তবে অনভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট।কিছু কিছু জায়গায় তিনি অনেক ভালো করেছেন,মনে হয়েছে চরিত্র টা তার জন্যই বানানো।তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে একটু নিষ্প্রভ রয়ে গেছেন।যেমন-মুভির শেষদিকে শরিফুল রাজ এর সাথে তার একটা আবেগঘন সংলাপ থাকে,যা দর্শকের মনে ব্যথার উদ্রেক করার কথা,কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সে ব্যথা অনুভব করা যায় না।তুষি আপুর অবশ্যই তার অভিনয়শৈলীর জন্য অভিবাদন প্রাপ্য।তবে এমন কিছু দৃশ্যে আপনার অনুভব হবে Jaya Ahsan আসলে কতো বড় মাপের একজন অভিনেত্রী এবং আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য কতো বড় সম্পদ।এই চরিত্রটাকে তিনি একটা আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখতেন।সময়ের সাথে হয়তো নাজিফা তুষি আরো পরিপক্ক হবেন এবং আরো সেরা হবে তার অভিনয়শৈলী।
"পরাণ" দেখার পর আমি একটা বিষয় নিয়ে খুব ভয়ে ছিলাম যে পরিচালক রা যাতে শরিফুল রাজকে এবং তিনি নিজেই নিজেকে টাইপকাস্ট না করে ফেলেন।And I'm so glad যে এটা হয় নাই।আরো একবার Sariful Razz বোঝালেন যে তিনি একজন ঝানু অভিনেতা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অন্যতম সেরা।বাংলা ছবির তাকে অনেক দরকার।"ইব্রাহিম" চরিত্রে তার অভিনয় অনবদ্য।সামনের দিনগুলোতে তার থেকে আরো নতুন নতুন চরিত্রে আমাদের মুগ্ধ করার আশা আরো বেড়ে চললো।আমি অনেক চাই কোনো পরিচালক শরিফুল রাজকে "Gangstar" আর Arifin Shuvoo কে "Secret Agent" চরিত্রে কাস্ট করে তাদের মধ্যে Faceoff করোনোর একটা মুভি বানাক।সঠিক নির্মাণ হলে That would be legendary.
Chanchal Chowdhury এই মানুষটার হাতে "আয়নাবাজি" থেকে একটা সোনার কাঠি আছে।তিনি যাই স্পর্শ করেন তাই যেনো সোনা হয়ে যায়।তার নিজেকে নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই।দেশের চলচ্চিত্র,নাটক,ওয়েব সিরিজ সবকিছুতেই তার নাম সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
মুভিতে তার "চান মাঝি" চরিত্রটা কয়েকটা স্তর দিয়ে যায়।কখনো আপনি হয়তো তাকে প্রচন্ড ঘৃনা করবেন,আবার কখনো তার জন্য মায়া হবে এবং এই অনুভূতি টা যে তিনি মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করতে পেরেছেন এটাই এই মানুষটার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।প্রতিটা চরিত্রের জন্য তিনি যেভাবে নিজেকে ভাঙেন ও গড়েন তা স্যালুটযোগ্য।আরো অনেক গুলো বছর এই মানুষটা সুস্থ থাকুন,এভাবেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে যান,আর আমাদের আনন্দ দিয়ে যান।
যেকোনো মুভির ভালো হয়ে ওঠার জন্য সঠিক কাস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এবং এই মুভির ক্ষেত্রে পরিচালক আর কাস্টিং ডিরেক্টর has hit it out of the park.
মুভির গান নিয়ে আর কিছু বলার নেই।বেরোবার পর থেকেই গান দুটো সব মানুষের মুখে মুখে আছে।সংগীত এবং আবহ সংগীত এর জন্য ইমন চৌধুরী আর রাশেদ শরীফ শোয়েব ভাইকে টুপিখোলা সালাম।
পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন কে নিয়ে একটা কথাই বলবো, "He's the one to look out for" এমন "Visionary" পরিচালক আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য অনেক দরকার।
মুভি দেখার সময় আমার দুটি ব্যক্তিগত হতাশা কাজ করেছে তা একটু বলি।
১।আমার আশা ছিলো "সাদা সাদা কালা কালা" গানটি চলার সময় মানুষ সমস্বরে গানটা গাবেন,নাচবেন।আমার শো এর সময় হলে যতো মানুষ ছিলো কেউই তা করেন নি।আর আমরা গেসিলাম ২ বন্ধু,তাই আর কেউ না করায় ২ জন মিলে আর করতে পারি নাই,এটা অনেক বড় আক্ষেপ।
২। I hate to break this but মুভির কোথাও "এ হাওয়া" গানটা নেই।এত মন ভাঙছে আমার ভাই।একদম শেষ পর্যন্ত হলে বসেছিলাম শেষে দিবে ভেবে,দিলোই না।

হাওয়া সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 6

রিভিউ লিখেছেন- Mahfuj Khan
movie : hawa 
imdb : 8.5 ( সামনে পরিবর্তন হবে নিশ্চিত) 
spoiler free
হাওয়া মুভির প্রমোশনের জন্য মেঘদল যে গানটা গেয়েছিল ( এ হাওয়া, আমায় নেবে কত দূরে?) হাওয়ায় সেই গানের উত্তর পেয়ে যাবেন  আপনাকে নিয়ে যাবে সমুদ্রের মাঝে। 
স্পইলার ছাড়া এই মুভির প্লট বোঝাতে গেলে বলতে হবে একদল জেলের গভীর সমুদ্রের গল্প। 
অভিনয় 
সবার অভিনয় মুগ্ধ করবে চঞ্চল চৌধুরীর কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নাই উনার ব্যাপারে সবাই জানেন উনি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি, তুশির ব্যাপারে আমার এক্সপেক্টশন খুবই লো ছিলো কারণ উনার একটাই কাজ দেখেছিলাম ক্লোসাপের কোন এক নাটকেত্ব যেখানে উনার অভিনয় আমার ভালো লাগে নাই তবে আমাকে অভাক করে দিয়ে ফাটিয়ে দিয়েছে। যখন মিস্ট্রি ভাব নিয়ে তাকায় তখন মনে হবে এই মেয়েটা আসলেই মিস্ট্রি মানব, সুমন আনোয়ার, সোহেল মন্ডল, শরিফুল রাজ ঠিকঠাক তবে বিশেষ করে বলতে হবে নাসির উদ্দিন খান কে নিয়ে উনি যেন স্ক্রিনে আসেনই সবার গলা ভাঙার জন্য। 
সিনেমাটোগ্রাফি 
অনেকেই বলছে বাংলা সিনেমার বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি (কয়েকটা রিভিউ তে পরেছিলাম) তবে আমি একথাতে দ্বিমত পোষণ করছি নডরাইতে এর থেকে ভালো সিনেমাটোগ্রাফি ছিলো, তবে হাওয়ারটা খারাপ বলছি তা না সেটাও অসম্ভব ভালো করেছে। 
সাউন্ড 
সাউন্ড কোয়ালিটি নিয়ে কি বলবো বুঝতে পারছি না আমাদের এখানে সিনেপ্লেক্স নাই তায় সিঙ্গেল স্ক্রীনে যেতে হয়েছে সেখানে সাউন্ড কোয়ালিটি একদম যা তা, তবে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম সিনেপ্লেক্সে সব ঠিকঠাক ছিলো তায় বলবো যদি দেখতে যান তাহলে চেষ্টা করবেন সিনেপ্লেক্সে যাওয়ার। 
গল্প 
সে বিষয়ে জানতে হলে আপনারা হলে গিয়ে দেখে নিবেন। আরে ভাই এত্তো ভালো মুভি যদি না দেখেন কোনটা দেখবেন। 
তবে কিছুটা কে ড্রামার ভাইব আছে। 
নিজস্ব মতামত 
আমার কাছে মনে হয়েছে ক্যারেক্টারগুলোর কিছুটা হলেও তার সমুদ্রের বাহিরের জীবন দেখানো উচিৎ ছিলো।
পারসোনাল রেটিং ৮/১০