এক ভিলেন রিটার্নস(Ek Villain Returns) সিনেমার পাবলিক রিভিউ
এক ভিলেন রিটার্নস(Ek Villain Returns) সিনেমার পাবলিক রিভিউ - 1
রিভিউ লিখেছেন- Mizanur Rahman
Ek villain Returns(2022)
Industry: Bollywood
#Nospoiler
যখন আর্টিস্ট দের এর নাম দেখবেন হাসবেন হয়তবা,আর সেটাই স্বাভাবিক।কিন্ত সেই "এক ভিলেইন"মুভির সম্মান এর রক্ষা করতে পারবে কিনা সেটা মুখ্য প্রশ্ন ছিল।
আর এরা পেরেছে(আমার মতামত)।মুভির কাহিনীটা যদিও কিছুটা অনুমেয় ছিল তারপরেও কিছু অংশে টুইস্ট ছিল ভালই।এমনকি শেষের দিকের টুইস্ট টাও আমি উপভোগ করেছি।বিজিএম,একশন সিন ভাল মানের ছিল।বিশেষ করে জন আব্রাহাম আমার কাছে বেশি ভাল লেগেছে।
কে কত রেটিং দিল না দিল তাতে কিছু যায় আসেনা।ক্রিটিক্স দের রেটিং ও আজকাল প্রশ্নবিদ্ধ।
#হ্যাপি ওয়াচিং
এক ভিলেন রিটার্নস(Ek Villain Returns) সিনেমার পাবলিক রিভিউ - 2
রিভিউ লিখেছেন- Khairul Amin Sarker
Movie : Ek Villain Returns
IMDB rating : 8.1/10
Personal rating : 6/10
No spoiler
২০১৪ তে আশা মুভি Ek Villain ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে দর্শকদের সেটিসফাই করেছিলো। রিতেশ দেশমুখ, সিদ্ধার্ত, শ্রদ্ধা কাপুরের অভিনয় আর স্টোরিলাইন বলিউড সিনেমা হিসেবে যথেষ্ট ভালো ছিলো। আজ আট বছর পর সেটির সিক্যুয়েল হিসেবে এলো Ek Villain Returns...
মুভিতে সব কাস্ট আর ক্যারেক্টার নতুন হলেও প্রথমেই রিতেশ দেশমুখের রেফারেন্সের মাধ্যমে ক্লিয়ার করে দেয়া হয় এর কাহিনী Ek Villain মুভির বেশ পরবর্তী সময়ের। মেইন কাস্ট হিসেবে ছিলো জন আব্রাহাম, অর্জুন কাপুর, দিশা পাটানি এবং তারা সুতারিয়া। ট্রেইলারের মাধ্যমে একটা কনফিউশন সৃষ্টি করা হয়েছিলো যে কে আসলে মুভির ভিলেইন হতে পারে। কিন্তু বাস্তবত সেটা মুভিতে আসল সাসপেন্স ছিলোনা।
থ্রিলার মুভি হওয়া সত্ত্বেও যারা এই জনরার মুভি দেখে অভ্যস্ত তারা অনেকটা সিন বাই সিন প্রেডিক্ট করতে পারবেন। পাশাপাশি ক্যারেক্টারগুলো কেমন খাপছাড়া টাইপ মনে হবে। মেইন ভিলেন ছাড়া কারো ক্যারেক্টারে অত্যাধিক জোর দেয়া হয়নি। ট্রেইলার দেখে মনে হবে কে আসল ভিলেন সেটা থাকবে ক্লাইম্যাক্সে। কিন্তু তেমন কিছু আশা করলে হতাশ হতে হবে কারন প্রায় মাঝ পর্যায়েই মেইন ভিলেন রিভিল হয়ে যায়, যদিও আগে থেকেই প্রেডিক্ট করা যাবে। মাঝেমধ্যে একটু আধটু সাসপিশাস মোমেন্ট আপনার এক্সপেক্টেশন বাড়াতে পারে যেকারনে মনে হবে সামনে কিছু একটা টুইস্ট আছে। ক্লাইম্যাক্সে টুইস্ট একটা আছে বটে। এবং ক্লাইম্যাক্সের টুইস্টের কারনেই ভিলেনকে 'প্রপার সাইকো কিলার উইথ মোটিভ' মনে হবে।
মুভিতে সচরাচর যেমন হয়ে থাকে তেমনি জন আব্রাহাম নিজের মাসকিউলার বডির ফায়দা লুটেছেন, দিশা আর তারার ক্যারেক্টার মুভির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের অভিনয় ছিলো এভারেজ। আমার পার্সোনালি মনে হলো অর্জুন কাপুরের অভিনয় এই মুভিতে জন আব্রাহামের থেকে ভালো ছিলো। মুভি যথেস্ট ফাস্ট ছিলো ফলে বোর করবেনা তেমন আর এভারেজ অভিনয়টাও ইগনোর করা যাবে কাস্টদের।
ওভারল বলবো একটা বলিউড মুভি হিসেবে এই মুভি দেখা যায়। এমনিতেই বলিউডে যেসব চলছে আজকাল...সেক্ষেত্রে যদি কেউ সাম্প্রতিক বলিউড মুভি দেখতে চায় তবে এটি দেখে আফসোস করতে হবেনা। মুভিতে সেকেন্ড দশেকের একটা পোস্ট ক্রেডিট সিন ছিলো যেটা বেশ সারপ্রাইজিং আর পরবর্তীতে সিক্যুয়েলের আভাস দেয়। পুরো মুভি আপনাকে সেটিসফেকশন দিতে যদি ব্যার্থ হয় তবুও পোস্ট ক্রেডিট সিন দেখার পর একটা রিফ্রেশমেন্ট অবশ্যই কাজ করবে এটা নিশ্চিত।
পোস্টে ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আর মুভি দেখে থাকলে নিজের মতামত শেয়ার করতে পারেন।
ধন্যবাদ।
এক ভিলেন রিটার্নস(Ek Villain Returns) সিনেমার পাবলিক রিভিউ - 3
রিভিউ লিখেছেন- Raihan Ahmed
Hero nehi hoon mein, villain hoon mein Villain!
হ্যাঁ ভাই ঠিক আছে বুঝে গেছি আমরা। আমাদের মাথা এতোটাও মোটা না যে বুঝবোনা। আর কয়বার এক ডায়লগ দিবি?
.
Movie: Ek villain returns
Personal ratting: 20/10
#হালকা_স্পয়লার
Ek villain returns মুভিটি Ek villain সিকুয়েল। যদিওবা এই নামটা ইউজ করে দর্শকদের টানতে চেয়েছেন মহিত সুরি। মুভির নাম শুনেই সবাই বুঝে নিবেযে এইটা একটা ভিলেনের কনসেপ্টে মুভি। কিন্তু এই মুভিতে ভিলেন একজন দুইজনও না পুরো ৪জনই ভিলেন।
এই মুভির দুইটা কাপল, একটা হচ্ছে অর্জুন কাপুর আর তারা সুতারিয়া এবং আরেকটা হচ্ছে জন আব্রাহাম আর দীশা পাঠানি। মুভির ডিরেক্টর যেহেতু মহিত সুরি তখন রিলেশনগুলো টক্সিক ছাড়া ভালো হয় কেমনে। একটার থেকে একটা বড় টক্সিক রিলেশনশীপ।
.
অর্জুন কাপুর হচ্ছে Bad boy of rich family যে বিন্দাস জীবনযাপন করা ছেলে, পুরোই বেপরোয়া টাইপ। সে প্রেমে পড়ে সহজসরল মেয়ে তারা সুতারিয়ার। যে হচ্ছে একজন স্ট্রাগলিং সিংগার।
অন্যদিকে জন আব্রাহাম একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার যে ট্যাক্সি ড্রাইভার হয়েও প্রেমে পড়ে একজন গ্ল্যামার্স, সুন্দর মেয়ের এবং মেয়েটি হচ্ছে দীশা যে একটা স্টোরে কাজ করে।
.
তাদের ৪জনেরই টক্সিক রিলেশনশীপ পুরোই জমে চলতে থাকে আর তার মাঝেই এন্ট্রি হয় ভিলেনের, যে একজন সিরিয়াল কিলার। শহরের সুন্দর সুন্দর মেয়েদেরই ধরে ধরে কিলিং করে। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই অর্জুনের প্রেমিকা তারা সুতারিয়া গায়েব হয়ে যায় আর সে থেকেই শুরু হয় মুভির থ্রিলিং।
কে এই সিরিয়াল কিলার? কে এই ভিলেন? কে আছে ওই মাস্কের পিছনে? কেন করছে এইসব খুন এই নিয়েই মুভি Ek villain returns!
.
মুভির পজিটিভ দিকঃ মুভিতে ভালোই থ্রিল পাবেন। পুরো মুভিতেই সাসপেন্স চারিদিকে ঘুরবে, সবার দিকেই যাবে, কে এই ভিলেন। মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো। ডিরেকশনও ঠিকঠাক। সাউন্ড গ্র্যাডও ভালো। ভালো কিছু ফাইটও পাবেন এই মুভিতে।
.
মুভির নেগেটিভ দিকঃ ভুলেও লজিক খুঁজতে আসবেননা এই মুভিতে। এই মুভিতে লজিক খুঁজলে আপনি পাগল হয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি খাবেন।
খোলা একটা জায়গায় মারামারি চলতে থাকে কিন্তু সিসিটিভি নেই কোথাও, চলন্ত ট্রেইনে দুইজন পিটাপিটি করতে থাকে কিন্তু তারা ছাড়া অন্যকেউ নেই। হঠাৎ করে বাইকও আকাশে উড়তে থাকে আবার বাইকের সাথে হালকা লাগাতেই পুলিশের গাড়ি ব্লাস্ট হয়ে যায়। যে বড়লোক সে আসলেই বড়লোক আর যে গরীব তার কাছেও হঠাৎ করে নতুন নতুন সব দামী কাপড়। আর একজন তো পুরো মুভিতেই একটা কালো জ্যাকেট পড়া ছিলো। মুম্বাইয়ে যে গরম তা জানিস ভাই কোন আইডিয়া আছে? Ek villain মুভিতে অন্ততপক্ষে ভালো কয়েকটা গান হলেও ছিলো এই মুভিতে তাও নেই।
এই মুভির লজিক আপনার ব্রেইন নিয়ে খেলবে। লজিক খুঁজতে গেলে আপনি মুভি দেখতে দেখতে কাঁদবেন আবার কাঁদতে কাঁদতে হেসে দিবেন আবার হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে যাবেন। ঘুম থেকে উঠে হয়তো আপনি ভাবতে থাকবেন আম গাছেও হয়তো কাঁঠাল ধরে।
.
মুভির অভিনয়ঃ এই মুভিতে জন আব্রাহামকে নিয়েছে মূলত ভালো বডিসডি দেখানোর জন্যে আর একশনের জন্য। অর্জুনকে নেওয়া হয়েছে রিচ ফ্যামিলির বেড বয় ক্যারেক্টর এর জন্যে। দিশা পাঠানিকে নিয়েছে কিউট ও মুভিতে হটনেস দেওয়ার জন্যে। আর তারা সুতারিয়া ছিলো স্ট্রাগল টাইপ ক্যারেক্টর এর জন্যে যে তার বাস্তব জীবন থেকে এক্সপেরিয়েন্সড।
সবাইকে সবকিছুর জন্যে নেওয়া হয়েছে ভাই কিন্তু অভিনয়ের জন্যে কাউকেই নেওয়া হয়নি। এতো বাজে অভিনয় তা বলার বাইরে। দীশা পাঠানি মুভিতে হটসিন ছাড়া আর কি করতে পারে ও হয়তো নিজেও জানেনা। আর তারা সুতারিয়া না আছে কথায় ইমোশন না আছে তার কান্নাতেও কোন ইমোশন। অর্জুনও তার সব মুভির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে টাইম ওয়েস্ট অভিনয় দিয়ে। জন আব্রাহামও ভালো বডি দেখিয়েছেন কিন্তু অভিনয়টা না। কারো ফেইসে কোন এক্সপ্রেশন নাই জাস্ট চলেই যাচ্ছে চলেই যাচ্ছে। ভিলেন মাস্কের কারণে তাদের মুখের ফালতু এক্সপ্রেশন অনেক ক্ষেত্রে দেখা লাগেনি।
মুভিতে রিথেশ দেশমুখের একটা ছোট ক্যামিও দেখতে পারবেন আর এতেই সহজে বুঝে যাবেন কোনগুলো অভিনয় আর কোনগুলো ডাস্টবিন।
.
আরেকটা মেইন ব্যাপার হচ্ছে এই মুভির ডায়লগ কে দিয়েছে তারে সিরিয়াসলি আমি সামনে পাইলে পাবনায় রেখে আসতাম। ফুতফাত থেকে ১০টাকার বই নিয়ে ডায়লগ মিলালেও এর থেকে ভালো হয়।
‘ সুপারস্টার জুড়ি হ্যে হামারা মেই ভিলেন অর তু? হেহেহেহে ’
থাক ভাই থাক কন্ট্রোল!
.
হাওয়ায় ভাসতে থাকার কারণে কাল দেখতে না পারলেও আজ দেখলাম এই মুভি। দেখার পর এখন আমি ভাবতে লাগলাম আসলেই হয়তো আম গাছে কাঁঠাল ধরে।
এইবার বুঝে নিন ও ভেবে নিন আপনারা কি এই মুভি দেখবেন নাকি না!
এক ভিলেন রিটার্নস(Ek Villain Returns) সিনেমার পাবলিক রিভিউ - 4
রিভিউ লিখেছেন- Epsilonn Naught
হতাশ করেনি সিকুয়েল,ভালো লেগেছে…
Ek Villain Returns (2022)
[হালকা স্পয়লার]
আমার দেখা সেরা দশটা বলিউড মুভির তালিকা যদি করতে বলেন সে তালিকায় ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘এক ভিলেন’ অবশ্যই থাকবে। এত স্মার্ট নির্মান,ব্লকবাস্টার মিউজিক এলবাম,রিতেশের দুর্দান্ত নেগেটিভ রোল,সিদ্ধার্থের পরিমিত অভিনয়-সবকিছুই সিনেমাটিকে অন্য লেভেলে নিয়ে গিয়েছিলো। তাই ‘এক ভিলেন’ এর সিকুয়েলের খবর যখন শুনেছিলাম,তখন থেকেই বেশ এক্সাইটেড ছিলাম। আর এবার মুক্তির পর এইচডি প্রিন্টের জন্য ধৈর্য্য না ধরে হলপ্রিন্টেই দেখে ফেললাম। সবমিলিয়ে ‘এক ভিলেন রিটার্নস’ কেমন লাগলো তা নিয়েই কথা বলা যাক।
সিনেমায় বড় লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া সন্তান গৌতম মেহরা (অর্জুন কাপুর)। আরভি (তারা সুতারিয়া) একজন উঠতি সিঙ্গার-যে কিনা সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ভৈরব (জন আব্রাহাম) হলো একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার । আর রাসিকা (দিশা পাটানি) একটা শপিং মলে চাকরি করে। সিনেমার শুরুতেই দেখা গেলো আরভিকে তার বাসাতেই আক্রমন করেছে কোনো এক রহস্যময় ‘স্মাইলি ফেস কিলার’। সবাই সন্দেহ করছে এই কিলার আসলে গৌতম। কিন্তু আসলেই গৌতমই কিলার কি না কিংবা এই গল্পে ভৈরব আর রাসিকার কানেকশনই বা কি সেটা নিয়েই কাহিনি এগিয়ে যায় ।
সিনেমার গল্প খুব যে ইউনিক কিছু তা নয়। সেই পুরনো ‘সিরিয়াল কিলার’ বেসড কাহিনি। কিন্তু টিপিক্যাল প্লটকে সুন্দর ভাবে প্রেজেন্ট করে যে একটা ভালো আউটকাম আনা যায় তা ই দেখিয়ে দিলেন মোহিত সুরি। এবং মোহিত সুরি এধরণের কারিশমা বহুবার দেখিয়েছেন পূর্বে,এজন্যই তিনি অন্যতম প্রিয় একজন ডিরেক্টর। সিনেমায় থ্রিল এবং টুইস্ট আছে যথেষ্ট। কিছু কিছু টুইস্ট দর্শককে অবাক করে দিতে বাধ্য। স্পেশালি একটা টুইস্ট তো রীতিমতো শকিং-খুব বলতে ইচ্ছা করছে সেই টুইস্টটা সম্পর্কে কিন্তু থাক,বিশাল স্পয়লার হয়ে যাবে!
অর্জুন কাপুরকে নিয়ে প্রচুর সমালোচনা,ট্রল হয়। সে খুব ভালো অভিনেতা তা বলছি না,কিছু সিনেমায় আসলেই বাজে এক্টিং করেছে। কিন্তু ভাই আপনারা তাকে যতটা খারাপ এক্টর বা এক্সপ্রেশনলেস বলেন,অর্জুন ততটাও খারাপ না। এই সিনেমায় অর্জুন বেশ ভালোই অভিনয় করেছে ;তার লুকেও নতুনত্ব ছিলো-ভালো লেগেছে। তারা সুতারিয়া যে এত ভালো গাইতে পারে জানা ছিলো না,অসম্ভব কিউট লেগেছে ওকে। তবে ইমোশনাল দৃশ্যগুলোয় তারা এখনো দুর্বল। দিশা পাটানিকে নিয়েও কম ট্রল হয় না। তবে সিনেমায় দিশাও ভালো করেছেন। এই চরিত্রের জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট চয়েজ দিশাই ছিলো। এবার আসা যাক জন আব্রাহামের কথা। অপ্রত্যাশিতভাবে এই সিনেমার সবচেয়ে দুর্দান্ত পারফর্মার ছিলেন জন।’সত্যমেভ জয়তে ২’ এ তার ওভার দ্য টপ এক্টিং দেখে যেমন বিরক্ত হয়েছিলাম তার পর এই এক ভিলেন রিটার্নসে তার কাছ থেকে এত ম্যাচিউর অভিনয় সত্যিই ধারণার বাইরে ছিলো। আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম সিনেমাকে ডোবাবে হয়তো জন,কিন্তু জন তার সাম্প্রতিক সময়ের সেরা একটা কাজ উপহার দিয়েছেন। কিছু কিছু দৃশ্যে জনের এক্সপ্রেশন একদম ভিতরে গিয়ে আঘাত করেছে। আমি তো বলবো জন আব্রাহামের জন্যে হলেও এই ফিল্ম একবার দেখা যায়।
এবার মিউজিকের ব্যাপারে আসা যাক। সিনেমার প্রত্যেকটা গানই খুব ভালো লেগেছে আমার। সবচেয়ে প্রিয় গান ‘দিল’। সিনেমায় এই ‘দিল’ গান নিয়ে একটা চমক আছে, যারা দেখেননি তাদের জন্য বাকি রইল এটা। গালিয়া রিটার্ন্সও মুভির কন্টেক্সটে ঠিকঠাক লেগছে। আর তারার কণ্ঠে ‘শামাত’ও অসাধারণ। প্লেলিস্টে জায়গা করে নেওয়ার মতো একটা মিউজিক এলবাম। মোহিত সুরির ফিল্মে সাধারণত মিউজিক দুর্দান্ত হয়,সেই রেপুটেশন আবারও ধরে রেখেছেন তিনি। তবে এটা ঠিক যে ‘এক ভিলেন’ লেভেলের মিউজিক হয়নি আর আমার মনেও হয় না কোনো সিনেমার মিউজিক এলবাম এক ভিলেনকে ক্রস করতে পারবে,ওটা অন্য লেভেলের ছিলো।
পজিটিভ দিক নিয়ে আলোচনা হলো অনেক;এবার কিছু নেগেটিভ নিয়ে কথা বলা যাক। ‘এক ভিলেন (২০১৪)’ এর রাইটার ছিলেন মিলাপ জাভেরি। মিলাপ জাভেরি আর মোহিত সুরি দুজনেরই প্ল্যান ছিলো এক ভিলেনের সিকুয়েল আনার। মিলাপ সিকুয়েলের স্ক্রিপ্টও লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু এরপর মোহিত আর মিলাপের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে যাওয়ায় মিলাপ এই প্রজেক্ট থেকে বের হয়ে যান। তবে তার লেখা ওই স্ক্রিপ্ট দিয়ে ঠিকই ‘মারজাঁভা’ নামক সিনেমা তৈরি করেন। এ দেখে মোহিতের মাথায় ভূত চাপে,মিলাপকে ছাড়াই এক ভিলেন ২ বানানোর। মোহিত এবার সিকুয়েলের জন্য আবার স্ক্রিপ্ট তৈরি করলেন, সেই স্ক্রিপ্টে ‘এক ভিলেন ২’ নামে শুটিং ও শুরু হয়-কিন্তু শেষ পর্যন্ত মোহিত সুরি নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মালাং’। মোহিত সুরি আবারও নতুন করে ‘এক ভিলেন ২’ এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করলেন এবং ফাইনালি উনার স্বপ্নের ‘এক ভিলেন রিটার্ন্স’ কমপ্লিট করলেন।
এখন সমস্যা হচ্ছে আপনি এই ‘এক ভিলেন রিটার্ন্স’ এ ওই যে মারজাঁভা আর মালাং সিনেমার কিছু দৃশ্য আর টুইস্টের সাথে মিল পেয়ে যেতে পারেন । কারণ ওই দুই সিনেমাই এক ভিলেন রিটার্নস হতে চেয়েছিলো। এছাড়া এই সিনেমার ডায়লগগুলোও একটু ক্লিশে। অর্জুনের ‘মারনা চালেগা,লেকিন হারনা নেহি…’ শুনতে ভালো লেগেছে কিন্তু এটি বাদে আর কোনো ডায়লগ উল্লেখ করার মতো না। এছাড়া জন-দিশার কিছু ইরোটিক দৃশ্য অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে-মানে ওসব না রাখলেও সিনেমার কোনো তফাত হতো না আরকি। আরেকটা নেগেটিভ পয়েন্ট হলো কিছু লজিকলেস একশন আর ভিএফএক্স,ওগুলো আরেকটু পরিমিতভাবে দেখানো যেতো।
সিনেমাটি যেহেতু এক ভিলেনের সিকুয়েল তাই বিভিন্ন জায়গায় কিছু এক ভিলেন মোমেন্ট রিক্রিয়েট করা হয়েছে। যেমন অর্জুন কাপুর তারাকে তাকে ছেড়ে না যাওয়ার অনুরোধ, দিশা জন আব্রাহামের গাড়িতে স্মাইলি ফেস আঁকা ,এছাড়াও আগের পার্টের বেশ কিছু ডায়লগও এখানে আবার ইউজ করা হয়েছে। এগুলো ভালো লেগেছে আমার কাছে। বেশ সুন্দর একটা ট্রিবিউট ছিলো প্রথম পার্টের প্রতি। কিন্তু এক ভিলেনে যেভাবে একটা রোমান্টিক স্টোরি বিল্ডাপ করা হয়েছিলো ২য় পার্টে তা নেই। অর্থাৎ এক ভিলেনের ভাইব আসলে পাওয়া যাবে না রিটার্ন্সে। ১মটা যদি হয় রোমান্টিক থ্রিলার,২য়টি হলো ইরোটিক থ্রিলার ধাঁচের।
ওভার অল, এক ভিলেন রিটার্ন্স আমার প্রত্যাশা পূরণ করেছে। আবারও বলছি এটা এক ভিলেন লেভেলের না অবশ্যই। কিন্তু তবুও যথেষ্ট এন্টারটেইনিং। আপনি যদি এক ভিলেন (২০১৪) দেখে থাকেন এবং ভালো লেগে থাকে,তবে আমি বলবো আপনি নেগেটিভ রিভিউকে পাত্তা না দিয়ে এক ভিলেন রিটার্ন্স (২০২২) দেখুন। আপনার জন্য চমক অপেক্ষা করছে। আপাতত এতটুকুই বললাম ,এর চেয়ে বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যেতে পারে। ধন্যবাদ সবাইকে…
%20%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%89.jpg)
0 Comments