কিশমিশ বেঙ্গলি মুভি রিভিউ

কিশমিশ বেঙ্গলি মুভি রিভিউ

কিশমিশ মুভি রিভিউ  - 1

রিভিউ লিখেছেন-Mostafa Mohammed Nisan

সিনেমাঃ- কিশমিশ
ইন্ডাস্ট্রিঃ- কলকাতা
ভাষাঃ- বাংলা
রেটিং ৭/১০
No Spoiler
কিশমিশ আদ্যপান্ত একটি প্রেমের ছবি হয়েও প্রেমকে কতটা explore করতে পারলো বা আদৌ পারলো কি ?
আচ্ছা আমাদের আগের জেনারেশান যেখানে অধিকাংশ বিয়েই অ্যারেঞ্জড হত, সেখানে হঠাৎই দুজন মানুষের বিয়ে হয়ে যেত তারপর ধীরে ধীরে একে অপরকে চিনত|| সেই সংসারগুলোতো আছে কোনো ভালোবাসা, নাকি পুরোটাই অ্যাডজাস্ট মেন্ট ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুব সুন্দর করে explore করা হয়েছে সিনেমাতে || আসলে ভালোবাসা কাহারে কয়  সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে টিনটিন আর রোহিনীর দুজনের পরিবারই কোথাও যেন বেড়ে ওঠে, grow করে যায় ||  এটা দুটো মানুষের প্রেমের গল্প নয় দুটো পরিবারের একসাথে ভালোবাসার যাত্রায় বেড়িয়ে পরার গল্প || রোহনী আর টিনটিনের প্রেম যেন খরার সংসারে হঠাৎ বৃষ্টির মতো, যার সংস্পর্শে মাটি নতুন করে প্রান ফিরে পায় অতীতকে ক্ষমা করতে শেখায় , টিনটিন রোহনীর প্রেম তো বটেই তার সাথে সাথে অন্য একজনের প্রেম, যে প্রেম একেবারে অন্যরকম, নাহ, কোনো পুরুষ নারীর প্রেম নয়  যে প্রেম কোনো মানুষকে তাঁর ব্যক্তিসত্বা থেকে বেরিয়ে এসে অপরজনের দৃষ্টিকোনকে সম্মান করতে শেখায় সেই এই সিনেমার heart || ক জন পারে বলুনতো ? যার চরিত্রের কথা বলছি তাকে সিনেমার শুরুতে একেবারে অন্যভাবে দেখি আর শেষে একেবারে অন্য রকমভাবে, তার চরিত্রের shades গুলো এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন আর শুধু একঘেঁয়ে প্রেমের গল্পই নয় সিনেমাটিকে ভয়ঙ্কর entertaining ও বানিয়ে তুলেছেন, যার প্রত্যেকটি সংলাপে হাবভাবে হলের দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়ে তার নামটা এখানে বলছি না , টিকিট কেটে সিনেমা হলে গিয়ে দেখুন , মনে ধরবে, ভালোলাগবে, কাঁদবেন এবং অনেক কিছু শিখবেন || 
এছবির look and feel সম্পূর্ন unique, একেবারে freash নতুন আর বাঙালিয়ানায় ভরপুর || গল্পটি ভীষন সাধারন predictable হলেও গল্প বলার ধরন তাতে অ্যানিমেশানের ব্যবহার সিনেমাটিকে অন্য লেভেলে নিয়ে যায় তার সাথে গান, নীলায়নদার গান ছবির বিভিন্ন situation এর যেন ওতপ্রতভাবে মিশে যায় আর তাঁর lyrics উফফফ্, সিনেমা দেখতে দেখতে মনের কোনে একটু একটু করে জমতে থাকা 
 মেঘরুপী আবেগকে কোথাও যেন বৃষ্টিতে পরিনত করায় আর দর্শকের দুচোখ বেয়ে ঝরে পড়তে literally বাধ্য করে ||
হিউমার কাকে বলে তা ছবির Director আর writter রাহুল মুখার্জীর থেকে just শেখা উচিত কি দূর্দান্ত লিখেছেন উনি সাথে ছবির প্রত্যেকটি চরিত্রকে  খুব detailing এর সাথে লিখেছেন || একটা সাধারন গল্পেকেও শুধু ভালো writing এর মাধ্যমে দর্শককে কীভাবে ছবির শেষ অবধি বসিয়ে রাখতে হয় উনি সত্যিই জানেন আর কোথাও এক পারসেন্টও মনে হয়না এটা ওনার প্রথম ছবি মনে হয় একজন রীতিমত হাতপাকা পরিচালকের ছবি দেখছি ||
অভিনয়ে প্রথমেই বলেনিই সাপোর্টিং কাস্টের কথা, খরাজ, অঞ্জনা বসু এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায় ওদিকে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে আমরা দেখতে পাবো একেবারে অন্যরকম ভাবে তাঁর সংলাপ একেবারে নেই বললেই চলে কিন্তু তার mannarism দিয়ে তিনি যা অভিনয় করেছেন তা এক কথায় দূর্দান্ত,তাঁর কিছু কিছু ভেঙে পড়ার scene  দর্শকের অন্তরাত্মা কোথাও থমকে যাবে , তাকে feel করবে আর শেষে এ চোখের কোনায় জল নিয়ে  একবার hug করতে চাইবে || 
দেবের কথায় আসি, প্রত্যেকটি ছবিতে নতুন নতুন চরিত্র করছেন এছবিতে সম্পূর্ন অন্যরকম দুটো চরিত্র করেছেন উনি আর দুটোতেই অনবদ্য কথাটা ছাড়া আর কোনো শব্দ দিয়ে explain করা যায় না || ভীষন মাপা যথাযথ সুন্দর অভিনয় সাথে রুক্মিনী  তিনিও দুটো চরিত্র করেছেন আর কী দারুন করেছেন ,তার মুখের প্রত্যেকটি অভিব্যক্তিতে দর্শক  প্রেমে পড়বে ||
কস্টিম ডিজাইন একটা অালাদা জায়গাই করে নিয়েছে সিনেমার গল্প বলায়, আর  সাথে সেট ডিজাইন বিলিয়ান্ট || বিশেষ করে দেবের ঘরটি পুংখানুপুঙ্খ ভাবে সাজিয়েছেন ||
আর শেষে সিনেমাটোগ্রাফি, মধূরা পালিত..what a cinematography , দার্জিলিয়ের চা বাগান, উপত্যকা কে একেবারে নতুন ভাবে দেখতে পাবেন যা চোখকে আরাম দেয় সাথে লাইটিং আর কালার গ্রেডিং কে আলাদা করে প্রশংসা করতে হয় || সিনেমাটোগ্রাফি এ ছবির ambience creation এ অন্যতম স্তম্ভ || 
কিশমিশ প্রেমের ছবির থেকেও আগে সম্পর্কের ছবি যেখানে বিভিন্ন সম্পর্ককে বেশ গভীরে explore করা হয়েছে , বাবা ছেলে, মা ছেলে, মায়ের  ছেলের প্রতি insecurity, Family values, কোনো অসমাপ্ত সম্পর্ক each end every thing যা ভীষন ভীষন ভীষননন realistic ভাবে দেখানো হয়েছে ছবিতে ||  গোটা পরিবার একসাথে বসে enjoy করতে একবার দেখে আসুননা  কিশমিশ,  কথা দিচ্ছি ঠকবেননা  ||

কিশমিশ মুভি রিভিউ  - 2

রিভিউ লিখেছেন-Labib Inkiad

❝ভালবাসি না বলেও ভালবাসা যায়❞! 
দেখে নিলাম গেলো ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত দেব অভিনীত মিষ্টি প্রেমের সুন্দর গাথনির গল্প ❝কিশমিশ❞। কিশমিশের স্বাদ মিষ্টতার চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছে। এই প্রেমের মধুরতা কৈশোর থেকে যৌবন, যৌবন থেকে বার্ধক্যকেও অনায়াসে ছাপিয়ে যাবে। 

কিশমিশ

নো স্পয়লার
গল্পটা টিনটিন (দেব) এর, যে সুন্দর পৃথিবীতে প্রেম খুঁজতে বেড়িয়েছিল। হঠাৎ তার জীবনে এলো রোহিনী (রুক্মিণী)। তুরুপের তাসের মতো টিনটিনের জীবন চোখের পলকে বদলে গেলো, ঘটলো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা! 
আশির দশকের চরিত্রগুলোও কিন্তু সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আওতাভুক্ত যা ট্রেইলারে দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে কিচ্ছু বলবো না কারণ স্পয়লার হয়ে যাবে। 
অভিনয় নিয়ে বললে দেব সম্পূর্ণ নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপন করেছে। যারা সবসময় ❝পাগলু, ঝিংকু, রিমেক মাস্টার❞ এসব বলেন তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচ। অন্ততপক্ষে এতটুকু হলফ করে বলতে পারি এই সিনেমা দেখার পর সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে। সবাই শুধু কিশমিশের স্বাদ আস্বাদনে মুখর হয়ে থাকবে। এছাড়াও রুক্মিণী, খরাজ মুখার্জী, কমলেশ্বর মুখার্জী, অঞ্জনা বসু সবাই নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে চুকিয়ে অভিনয় করেছে। 
ভারতীয় বাংলা চলচিত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে ❝কিশমিশ❞। মারদাঙ্গা একশন - মাসালা ফিল্ম বাদেও যে শুধুমাত্র রোমান্টিক ধারার মনোমুগ্ধকর প্রেমের গল্প দিয়ে একদম শেষ পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখা যায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো ❝কিশমিশ❞। 
হাতে সময় থাকলে এক্ষুনি কিশমিশের মিষ্টতা অন্বেষণে লেগে পড়ুন। আশা দিচ্ছি হতাশ হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। 
রেটিং : ০৯/১০