টনিক(Tonic) বেঙ্গলি মুভি রিভিউ
টনিক(Tonic) মুভি রিভিউ - 1
রিভিউ লিখেছেন-Mostasin Mahady
টনিক যেখানে প্যানিক নেই সেখানে।
টনিক (২০২২)
[ নো_স্পয়লার ]
এই টনিক কোনো ওষুধ না। এই টনিক আনন্দের, এই টনিক ভালোবাসার। সাঁঝবাতির পর দেব আরও একটি সুন্দর ফ্যামিলি ড্রামা নিয়ে এসেছে। যেখানে ছিল অ্যাডভেঞ্চার, ভালোবাসা, কমেডি, মূল্যবোধ আরও কতকি। অভিজিৎ সেন খুব সুন্দর ভাবে পরিচালনা করেছে। খুব উপভোগ করেছি।
আচ্ছা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইচ্ছে গুলোকেও কি ঝেড়ে ফেলতে হয়! বয়স্করা কি আনন্দ ফূর্তি করতে পারবে না! পাহাড়ে কি তাদের ওঠা নিষেধ! যদি না হয় তাহলে ছেলে কেন বাঁধা দেয়! বিবাহবার্ষিকী সবার জন্য যেখানে যুবক কিংবা বয়স্ক বলে কিছু নেই। এই মুভিটি এক বয়স্ক কাপল এর ৪৭তম বিবাহ বার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। আর এর ভিতরেই সব কিছু। যা শুধু ভালোই লাগিয়ে দিয়েছে।
দেব এখন কন্টেন্ট নির্ভর হয়ে গেছে। যার কারণে তার মুভি গুলো সুন্দর হচ্ছে। আবার তা মৌলিক গল্পের। এই মুভিতে তার অভিনয় বেশ সুন্দর ছিল। সাঁঝবাতির চরিত্রই মনে হয়েছে। পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যার বয়স সংখ্যা মাত্র। এই বয়সেও দাপটের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছে। কি এনার্জি তার। এই মুভিতে পুরাটাই তাকে নিয়ে। আর তার অভিনয় ছিল একদম অস্থির। দারুণ লেগেছে।
খুব সুন্দর লোকেশন। দার্জিলিং কে খুব সুন্দর করে রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি এবং ক্যামেরার কাজও ছিল খুব ভালো সাথে জিৎ গাঙ্গুলির মিউজিক। একা এবং আয়নাতে গান দুটি সুন্দর। কমেডি গুলোও উপভোগ করেছি। তাই বলবো দেখতে বসলে একটুও খারাপ লাগবে না।
হ্যাপি ওয়াচিং
Read more: কিশমিশ(kishmish) বেঙ্গলি মুভি রিভিউ
টনিক(Tonic) মুভি রিভিউ - 2
রিভিউ লিখেছেন-Rashed Rahman
*হালকা স্পয়লার*
মুভি- : টনিক (TONIC) ২০২২
Imdb Rating -8.7/10
টনিক’- ইচ্ছা পূরনের গল্প… শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা টনিক-ই ভরসা… সিনেমার এই সংলাপ আমাদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। অসুখ করলেই আমরা ক্যাপসুল, সিরাপ, টনিকের দ্বারস্থ হই। আর এই ছবির গল্পের মূল চরিত্র মানে টনিক, সেও তাই। মৃতপ্রায় সম্পর্ককে চাঙ্গা করতে তার জুড়ি মেলা ভার! সিনেমার গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানেই নামের সার্থকতা। আবেগ, রোমাঞ্চ, ড্রামা-মেলোড্রামা কি নেই? আমাদের প্রত্যেকের সংসারের বাস্তব সমস্যার এক টুকরো দলিল তুলে ধরেছেন পরিচালক অভিজিৎ সেন। এই গল্প আমার-আপনার, আমাদের সবার। ব্যস্তজীবনে আমরা অনেকেই বৃদ্ধ মা-বাবাকে সময় দিতে পারি না। আবার কখনও বা তাঁর শরীর-স্বাস্থ্যের কথা খেয়াল রেখে একটু বেশি সাবধানী হই, কড়া শাসনে রাখি। কিন্তু এক ছাদের তলায় মানুষগুলোর সঙ্গে ডিনার টেবিলে রোজ দেখা হলেও কি কখনও জানতে চাই যে- ওঁরা কী চাইছেন? ‘টনিক’ সেই প্রশ্নই ছুঁড়ে দিল দর্শকদের সামনে।
এবার আসা যাক, দেব-পরাণ (Dev, Paran Bandopadhyay) জুটির কথায়। একজন তরুণ অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিনস্পেস শেয়ার করে এই বয়সেও যে তাঁকে প্রতিটা দৃশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া যায়, সেটা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই দেখিয়ে দিলেন। ‘টনিক’-এর হাত ধরে শেষ বয়সে নিজের সব না-পাওয়া, চাহিদাগুলো মিটিয়ে নেন জলধর (পরাণ)। অবসরপ্রাপ্ত এই ছাপোষা মধ্যবিত্ত বাঙালি বুড়োটি তাঁর সংলাপের মধ্য দিয়েই যেন আমাদের চারপাশে কত-শত বৃদ্ধ, পরিবারের অবহেলায় পড়ে থাকা বাবার কথা বলে উঠলেন- “বাড়িতে বউয়ের ছ্যাঁকা, ছেলের বকা, পেটের অম্বল আর রাতের কম্বলে”-ই যাঁর জীবন সীমাবদ্ধ। এই ছবি যেন বারবার কাতর আর্তি জানায়- বৃদ্ধ বাবা-মাকে সংসারের এককোণায় ফেলে রাখবেন না। যত্ন নিন। যে মানুষগুলো বুকে আগলে বড় করেছে, হাত ধরে চলতে শিখিয়েছে, ওঁরা ভাল আছে কিনা জানতে চান। যে ভূমিকায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্ধষ বললেও কম বলা হয়। আশি বছর বয়সেও যে সুপারস্টার যুবকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করা যায়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে শেখালেন তিনি।
রিভার ব়্যাফ্টিং কিংবা রক ক্লাইম্বিং, প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো দৃশ্যেও পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিব্যক্তি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অসাধারণ। তবে ‘টনিক’ দেবও কম যান না। প্রত্যেকটা ছবির জন্য নিজেকে যেভাবে ভাঙাচোড়া করেন তিনি, সেই কসরতকে বাহবা দিতেই হয়। ‘গোলোন্দাজ’-এ নিজের জাত চিনিয়েছেন দেব। আর ‘টনিক’-এ আবারও ‘সাঁঝবাতি’র কথা মনে করালেন অভিনেতা। বৃদ্ধ দম্পতির স্বপ্নপূরণ করতে, তাদের ভগ্নপ্রায় পরিবারকে জোড়া লাগাতে ‘টনিক’-ই মুশকিল আসান। তার সঙ্গে অবশ্য টনিকের ব্যক্তিগত জীবনের অতীতের সম্পর্কও রয়েছে। কী? মুভিতে তা দেখবেন। সব বলে দিলে হবে?
পুরা সিনেমায় একটাই ব্যাপার চোখে লেগেছে, পরান বন্দোপাধ্যায়ের পাহাড়ে উঠার সেই চেস্টা এবং শ্বাসকষ্ট এর পাফ মেশিন ফেলে দেয়া। এই সমস্যার রোগী আমি নিজেই, দার্জিলিং থেকে শুরু করে মানালি বা কাশ্মীর সবখানেই কয়েকবার গিয়েছি এবং সবখানেই শ্বাসকস্টের সমস্যা ফেইস করেছি। এই ব্যাপারটা বাস্তবভিত্তিক দেখালে ভালো হতো।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য সিনেমার সংলাপ। গল্পের পরতে-পরতে কমিক এলিমেন্ট জুড়ে দেওয়ার জন্য ‘টনিক’-এর সংলাপ লেখক শুভদীপ দাসকে অতিরিক্ত নম্বর দিতেই হয়। কথার ভাঁজে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কিংবা গেরুয়া শিবিরের হয়ে মিঠুনের জনসভাকেও পারদর্শীতার সঙ্গে বিঁধেছেন তৃণমূল সাংসদ-অভিনেতার ছবিতে। রাজা নারায়ণ দেবের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আর জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মিউজিক সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনকে ফুরফুরে করে তুলবেই।
টনিক(Tonic) মুভি রিভিউ - 3
রিভিউ লিখেছেন-Rimon
নামঃ টনিক
পরিচালকঃ অভিজিৎ সেন
অভিনয়েঃ দেব, পরাণ ব্যানার্জি, শকুন্তলা বড়ুয়া, কণিকা ব্যানার্জি, সুজন মুখার্জি।
জনরাঃ ফ্যামিলি ড্রামা
IMDb rating: 7.9
ব্যক্তিগত রেটিং: 💗/১০
(নো স্পয়লার)
২০২১ এ সর্বোচ্চ উপার্জন করা ভারতীয় বাংলা ছবি এবং বক্স অফিসে ' অলটাইম ব্লকব্লাস্টার' এর সুনাম অর্জন করেছে।
টনিক, এ যেন সত্যিই মন ভালো কর দেয়ার টনিক।
প্রবীণ বয়সে যেখানে জীবনে সব আনন্দ, উল্লাস শেষ হয়ে যায়, সেখানে টনিক সেই বয়সে নতুন করে আবার বাঁচতে শিখিয়েছে।।
গল্পে ৭৫ বয়সী জলধর সেন(পরাণ ব্যানার্জি) নিজের বন্ধুর বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠান থেকে আসার পর তার নিজের ও ইচ্ছে তাদের ৪৬ তম বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করবে।
কিন্তু বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে তার ছেলে যে পরিকল্পনা করে রেখেছে সেটা তার পছন্দ হয়নি, কেননা তার ইচ্ছে অনেক টা উঁচুতে গিয়ে বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করবে।
সেই সুবাদেই ছেলের অজান্তেই বাবা জলধর সেন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে।
সেই ট্রাভেল এজেন্সির ম্যানেজার হচ্ছে টনিক(দেব)।
টনিক এর মাধ্যমেই ব্যবস্থা হয় তাদের স্বপ্নের যাত্রা।
গল্পের পরের কাহিনী বললে স্পয়লার হয়ে যাবে, যা মোটেও চাই না
কারণ পুরো মুভি টা ভীষণ ইঞ্জয় করার মত।
চাঁদের পাহাড়, অ্যামাজন অভিযান, সাঝঁবাতির পর দেবের ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা অভিনয় এবং মুভি ছিল এটা।
আর আমার দেখা এটাই দেবের ক্যারিয়ার সেরা মুভি।
আপনি যদি একজন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে নিঃসন্দেহে এই ছবি টা আপনার জন্য, কেননা এটা সম্পূর্ণ দেখার পর ভ্রমণ করার ইচ্ছে টা আরো বেড়ে যাবে, সাথে ভ্রমণ করার জন্য ভালো একটা ধারণা ও পেয়ে যাবেন।
শেষ পর্যন্ত জলধর সেন বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে পারলো কিনা সেটা জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই সম্পূর্ণ মুভি টা দেখতে হবে।
বাজি ধরতে পারি এটা দেখার সময় মুখে হাসি ফুটে উঠবেই ।
প্রত্যেক টা মানুষের উচিত সময় সুযোগ থাকতেই নিজের স্ত্রী / পরিবার নিয়ে জীবন আনন্দের সাথে উদযাপন করা যাতে শেষ বয়সে এসে আফসোস করতে না হয়।
টনিক(Tonic) মুভি রিভিউ - 4
রিভিউ লিখেছেন-Mizan Talukder
Tonic (2021)
ভাষাঃবাংলা
জনরাঃড্রামা।
আইএমডিবিঃ ৮.৬/১০।
পার্সোনাল রেটিংঃ ৮.০/১০।
*নো প্যানিক,অনলি টনিক।❤️*
★★★হাল্কা স্পয়লার★★★
কাহিনী সংক্ষেপঃ ৭৫ বছর বয়সের জলধর সেন নিজেদের ৪৬তম বিবাহ বার্ষিকী অনেক ধুমধাম করে উৎযাপন করতে চায় কিন্তু তার ছেলে চায় বাসায় ছাদে ছোটখাটো ভাবে অনুষ্ঠান করার।বাবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছেলের নানান ধরণের শাসনের কারণে অনেক ইচ্ছের বলিদান দিতে হচ্ছে জলধর সেনকে।কিন্তু এবার জলধর সেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে সে তার এবারের বিবাহ বার্ষিকী প্যারিসে গিয়ে উৎযাপন করবে,তবে জলধর সেন ও তার স্ত্রী কারো ই পাসপোর্ট নাই।তাদের পাসপোর্ট না থাকা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে সাহায্য করতে আসে টনিক (দেব)।সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই হচ্ছিলো তবে শেষমুহুর্তে এসে জলধরের স্ত্রী'র পাসপোর্ট আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
অত:পর কি হয়!? জলধর সেনের কি বাধ্য হয়ে বাসার ছাদেই নিজেরদের ৪৬ তম বিবাহ বার্ষিকী উৎযাপন করতে হবে?
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সন্তানদের কড়া শাসনের মধ্যে দিয়ে চলতে হয় বাবা-মা'কে।যার ফলে অনেক সময় বাবা-মা'কে নিজেদের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়।শেষ বয়সে এসে যখন হাফ ছেড়ে বাঁচবে তখন রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় পড়ে যায়।যেখান থেকে বের হওয়া তাদের জন্যে খুব জরুরী হয়ে পড়ে তাদের সুস্থভাবে (মনের দিক থেকে) বাঁচার জন্যে।মুভির স্টোরি'টাও ঠিক এরকমই।খুবই সুন্দর স্টোরির সাথে সুন্দর উপস্থাপন।মুভিটা দেখার সময় প্রতিটা সময় আপনার মুখের কোণে হাসি থাকবেই।আমার দেবের ক্যারিয়ারের সব মুভি দেখা নয় তবে নিঃসন্দেহে বলতে পারি এটা দেবের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুভি।ইদানীং সময়ে দেব রিমেক ছেড়ে মৌলিক গল্পের সিনেমা করতেছে আর বেশ সফল ও হচ্ছে তাতে,যা খুবই ভালো সংবাদ।অভিনয়ে টনিক চরিত্রে দেবের অভিনয় বেশ ভালো ছিলো তবে সবচেয়ে অসাধারণ যে মানুষটা ছিলেন তিনি হলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বয়সে এসেও কি অসাধারণ অভিনয় করলেন তিনি,একদম মাতিয়ে রাখলেন পুরো।এছাড়া বাকি সকলেও বেশ ভালো কাজ করেছে তাদের চরিত্রে।মুভির স্কিনপ্লে বেশ ভালো ছিলো,আপনাকে বোরিং হওয়ার চ্যান্স দিবে না মুভি।মুভির লোকেশন দারুণ ছিলো,দার্জিলিং এর মনমুগ্ধকর পরিবেশ আপনাকে লোকেশনের প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে।মুভির সিনেমাটোগ্রাফি এবং মিউজিক ও অনেক সুন্দর ছিলো।মুভির নেগেটিভ দিক বলতে গেলে বলবো ২/১ টা সিন ওভার ড্রামাটিক হয়ে যাওয়া,কিছু দৃশ্যে দেবের আরো বেশী ন্যাচারাল এক্টিং এর সুযোগ ছিল আর ভিএফএক্স যদিও এই বাজেটে ভিএফএক্স দারুণ কিছু হবে এমনটা আশা করা বোকামি তবে দৃষ্টিকটু লাগছিলো আর কি। তবে এসব মোটেও আপনার মুভিকে উপভোগ করতে বাধা হবে না তবে এসব হলে মুভি আরো বেশী পারফেক্ট হতো এই আর কি!সর্বোপরি "টনিক" এক অসাধারণ কলকাতার মুভি,যা প্রত্যেকের দেখা উচিত আর পারলে ফ্যামিলি নিয়ে দেখা উচিৎ।
টনিক(Tonic) মুভি রিভিউ - 5
রিভিউ লিখেছেন-সঞ্চিতা নিপা
তা আপনার জীবনে 'টনিক' কোনটি???
টনিক(২০২১)
জনরা: ড্রামা-কমেডি
আইএমডিবি রেটিং: ৮.৯/১০(860 votes)
ব্যক্তিগত রেটিং: ০৮/১০
প্রাপ্তিস্থান: জি ফাইভ
*** স্পয়লার ফ্রি ***
অসুখ হলে আমরা ওষুধ বা 'টনিক' গ্রহণ করি। কিন্তু সব অসুখই কী শারীরিক আর 'টনিক' মানেই কী বোতল বা পাতাবন্দি তিতকুটে ওষুধ???
.
ব্যক্তিজীবনের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই জীবনের সাধ-আহ্লাদ ভুলে যাই। আবার, নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করলেও, যাঁরা নিজেদের সমস্ত সাধ-আহ্লাদকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের বড় করে তুলেছেন, সে-ই বাবা-মায়েদেরও যে কোনও শখ/ইচ্ছে থাকতে পারে সেটা ভেবেও দেখি না, জানতেও চাই না। গুপ্ত সেই ইচ্ছে বা সাধ পূরণের গল্প নিয়েই 'টনিক' এর কাহিনি।
.
#কাহিনি_সংক্ষেপ: বাবা মায়ের ৪৬তম এ্যানিভার্সারি পূরণের জন্য একমাত্র ছেলে বাড়ির ছাদে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকে। অন্যদিকে, বৃদ্ধ বাবা সস্ত্রীক দেশের বাইরে সেই বিশেষ দিন পালনের প্রস্তুতি নিতে থাকে সবার অগোচরে। এরই অংশ হিসেবে ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আগমন ঘটে 'টনিক' এর। অতঃপর, সেই ইচ্ছেপূরণ হয় কিনা সেটি নিয়েই মুভির কাহিনি।
.
দেবের প্রোডাকশন হাউসের সপ্তম এই মুভির প্রাণ বলতে সবার আগে বর্ষীয়ান পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বয়সেও যেভাবে বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখাচ্ছেন, তা রীতিমত অভাবনীয়। এরপর বলতে হয় দেবের কথা- সেই যে 'চাঁদের পাহাড়' দিয়ে শুরু, মাঝের কয়েকটা বাদ দিলে নিত্যনতুনভাবে নিজেকে গড়ে তুলে সবার সামনে হাজির হচ্ছেন। এই দুইজনের সাথে বর্ষীয়ান শকুন্তলা বড়ুয়াসহ ক্যামিওরোলে কলকাতা ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত সব মুখ, সঙ্গে জিৎ গাঙ্গুলির মিউজিক। মন ভালো করতে আর কী লাগে! অবশ্য, লাগে ইচ্ছে, আর মুভির ডায়ালগের মত করে বললে "ইচ্ছের তো কোনো বয়স হয় না।"
.
পরিশেষে বললে, পরিচালকের এটি প্রথম সিনেমা যিনি জি বাংলার বিভিন্ন রিয়েলিটি শো এর নির্মাতা। তাই প্রথম কাজ হিসেবে টুকটাক দূর্বলতা(কিছু দূর্বল ভিএফএক্স) চোখে লাগলেও, এমন একটি থিম নিয়ে পরিবারসমেত দেখার মতন একটি মাইন্ড ফ্রেশনার ছবি তিনি নির্মাণ করতে পেরেছেন বলে মনে হয়েছে। দেখতে চাইলে জি ফাইভ/সম্ভাব্য যেকোনও সাইটে পাওয়া যাবে। হ্যাপি ওয়াচিং ।
%20%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A6%BF%20%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%AD%E0%A6%BF%20%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%89%20(1).jpg)
0 Comments