কারাগার ওয়েব সিরিজ রিভিউ
কারাগার ওয়েব সিরিজ রিভিউ - 1
রিভিউ লিখেছেন- Ataur Rahman Masum
কারাগার ( স্পয়লার বিহীন রিভিউ )
কারাগার: ওটিটিতে বাংলাদেশের সেরা সিরিজ!
আমাদের দেশে ওটিটির আগমন আর 'তাকদীর' সিরিজটির সফলতা যেন একসূত্রে গাঁথা। সৈয়দ আহমেদ শাওকীর 'তাকদীর' এর সফলতার দরুন ওটিটিতে পরিচালক ও কলাকুশলীদের আগ্রহ বেড়েছে, দর্শকের কাছে আস্থার এক নতুন মাধ্যম বিবেচিত হয়েছে ওটিটি প্লাটফর্ম গুলো! তবে, হাতেগোনা কয়েকজন পরিচালক সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছেন আর শাওকী সেই লিস্টের প্রথমেই থাকবেন। প্রথম সিরিজ থ্রিলার আর দ্বিতীয় সিরিজটা মিস্ট্রি ড্রামা জনরার!
'কারাগার' সিরিজের গল্প এগিয়েছে, কারাগারে একরাতে কয়েদি গোনার সময় প্রায় ৫০ বছর ধরে বন্ধ এক সেলে হঠাৎ করে এক রহস্যমানব কে পাওয়া যায়! কানে শুনেন না ও কথা বলতে পারেন না সেই রহস্যমানব সাইন ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে জানায় সে ২৫০ বছর ধরে সে বেঁচে আছে এবং সে মীরজাফর কে খুন করেছেন! নিজের পারিবারিক ও কর্মজীবনের ঝামেলায় ব্যস্ত জেলার হতব্যস্ত হয়ে পড়েন তার খোঁজ নিতে!এদিকে কয়েদিরা রহস্যমানব কে পীর,বাবা মানতে শুরু করেছেন! একেক কয়েদির একেক রহস্য, রক্ষীদের মৃত্যু, জেলারের কর্মকান্ড ও ১৯৭১! সবমিলিয়ে দারুণ এক গল্পের পসরা বুনেছেন শাওকী, যার খোলাসা দ্বিতীয় পার্টে হবে!
কারাগার সিরিজটি তার অভিনয় গুনে সমৃদ্ধ। নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের দেখা যেমন মিলেছে তেমনি অনেকেই প্রথমবারের মতন ওটিটিতে পদার্পণ করেছেন। পুরো সিরিজে রহস্যমানব সেজে রহস্যময় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। ৭ পর্বের সিরিজটিতে কোনো সংলাপ ছাড়া শুধুমাত্র এক্সপ্রেশন দিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। হাঁটাচলা, মুখ চোখের চাহনি, অদ্ভুতুড়ে ভাবে কিছু আঁকাআকি করা, পুরো সিরিজ জুড়ে চঞ্চল চৌধুরী তার অভিনয়ে বেঁধে রেখেছেন। জেলার চরিত্রে ইন্তেখাব দিনারের অতুলনীয় পারফরম্যান্স কাজটিকে চোখের আরাম দিয়েছে। তেমনি, সহকারী জেলার রূপে একে আজাদ সেতু একফোঁটা চোখের পলক ফেলতে দেননি তার অভিনয় গুনে। ভালো লেগেছে অনেকদিন পর এফ এস নাইম কে দেখে। ওটিটিতে প্রথমবারেই দারুণ করেছেন তিনি। বিজরী বরকতউল্লাহ, ফারহানা হামিদ, তাসনিয়া ফারিন বেশ সুন্দর যার যার চরিত্রে। তবে, স্বল্প সময়ে দারুণ করেছেন আফজাল হোসেন। প্রধাণ জল্লাদের ভূমিকায় তার অভিনয় অনেকসময় পিলে চমকে দেবার মতন। ভালো লেগেছে শেখ পার্থ কে, তাকে নিয়ে অনেক বলার। সেন্টু ও পাভেল জামানের কৌতুকপূর্ণ দৃশ্যটা বেশ ভালো লেগেছে।
কারাগার ভালো লাগার অনেক কারনের মধ্যে এর সিনেমাটোগ্রাফি ও মিউজিক বেশ মনে ধরেছে। বরকত হোসেন পলাশের চিত্রগ্রহণে কারাগারের আলো-আঁধারির খেলা, মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতে পেরেছে। রুসলান রেহমান এর আবহ সংগীত কাজটিকে সহজতর করেছে কানের জন্য। সালেহ সোবহান অনীম এর সম্পাদনা চমৎকার এবং প্রশংসা করতে হয় ফারজানা সানের কস্টিউম। নেয়ামত উল্লাহ মাসুমের চিত্রনাট্য দারুণ কিন্তু মনে রাখার মতন সংলাপ নেই পার্ট ওয়ানে, যা পার্ট টু'তে থাকবে বলেই বিশ্বাস।
কারাগার পার্ট ওয়ানে যে প্রশ্ন গুলো দর্শকমনে তুলে ধরা হয়েছে, পার্ট টু'তে সব খোলাসা করা হবে এবং তা বেশ ভালোভাবেই করা হবে বিশ্বাস। কারাগার সিরিজটি যে প্রচুর রিসার্চ ও যত্নে নির্মিত তা কাজটি দেখলেই বোঝা যায়। পার্ট টু যদি ঠিকমতো ক্লিক করে তবে অবশ্যই বাংলাদেশের এখন অব্দি সেরা সিরিজ হবে "কারাগার"। আপাতত, খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্ব আসুক এটাই চাওয়া!
কারাগার ওয়েব সিরিজ রিভিউ - 2
রিভিউ লিখেছেন- Adnan Arko
কারাগার।
হতাশায় ভরা রিভিউ
স্পয়লার নাই (দেয়ার মত আছেই বা কি)
নীচের লেখা পড়ার আগে জানিয়ে রাখি, এটা একদম ই ব্যাক্তিগত মতামত। গালি খাওয়ার বিশাল সম্ভবনা এবং "শাকিপ খান" এর ডি গ্রেড সিনেমার বিশাল ফ্যানের ট্যাগ খাওয়ার চিন্তা মাথায় রেখেই আমি শুধু কিছু প্রশ্ন করতে আসলাম। তার আগে যোগ্য মানুষের তারিফ টা আগেই সেরে নেই। চঞ্চল চৌধুরী ব্যাস উনাকে নিয়ে কিছু বলাটাও বেয়াদবি। সিম্পলি অসাধারন। উনার সিন গুলো দেখতেই কষ্ট করে বসে ছিলাম আর কি!
যাই হোক, এবার আসি সর্বপরি গল্প নিয়ে।
এই যে কারাগার নামক সিরিজ টার সাতটা এপিসোড রিলিজ দিল, আচ্ছা সত্যি মন থেকে বলেন তো যে একদম শেষ পাঁচ মিনিট বাদে বাকি পর্ব গুলোর লজিক টা কি। মিস্ট্রি থ্রিলার জনরার ধরন টা মাথায় রেখেই বলছি, কাহিনী বিল্ডাপ ই যদি উদ্যেশ্য হবে তো সেটা তো দুই পর্বেই হয়ে যেতো। প্রত্যেকটা চরিত্র কে আলাদা করেও যদি চিন্তা করে দেখি তো এক একজনের গল্পের গভীরতা কি আসলেও এত গুলো পর্বের মত ছিল? চরিত্র গুলো কি খুব স্পেশাল ছিল? প্রত্যেকটা চরিত্রের একটা ব্যাকস্টোরি দেয়ার ব্যাপারটা কে তারিফ করেই বলছি, খুব শক্ত কোন চরিত্র কি ছিল? নি:সন্দেহে খুব ক্যাচি ভাবে শুরু হওয়া সিরিজ টা একটু পরে যেয়েই খাপ ছাড়া আর মন্থর হয়ে গেল। লাইন বিচ্যুত হয়েছে সেটা বলবো না কিন্তু টিজার ট্রেইলারে যেই ব্যাপারটা তে ফোকাস করে রিলিজ দিল সেইটাই কিনা গায়েব হয়ে গেল ধীরেধীরে। প্রত্যেকটা সেগমেন্ট খাপছাড়া লাগা শুরু হল। দুই পার্ট মিলিয়ে গল্প সুন্দর হবে কিনা জানি না কিন্তু প্রথম কিস্তির পুরো গল্প টা আরামসে এক ঘন্টায় বলে দেয়া যেত এবং তাতে কোন ক্ষতিবৃদ্ধি ও হত না। ক্লিফহ্যাঙ্গার রেখে প্রথম পার্ট শেষ হবে তাতে আমার কোন আপত্তি নেই কিন্তু তাই বলে গল্পের সামান্য বিল্ডাপ ও না হলে কিভাবে ভাই?! সাতটা এপিসোডের কথা বাদই দিলাম, টিজারে ট্রেইলারে পাওয়া গল্পের থেকে শুরু করে কাহিনী কত টুকুই বা আগাইলো। যখন একটু মনে হচ্ছে আগাবে তখুনি আবার সব বদলে গেল। এর চাইতে ভাই সেকেন্ড পার্টের আগে এত কষ্ট করে সাত টা এপিসোড না বানিয়ে একটা ভিডিও প্রেসেজেন্টেশন বানিয়ে শুধু চরিত্র গুলোর পরিচয় আর কার জীবনে কি হচ্ছে বলে দিয়ে সেকেন্ড পার্ট রিলিজ দিলেও হইত
হাইপ অনুযায়ী দেখলে চরম হতাশ হতে হবে। এমনি তে এভারেজ কন্টেন্ট।
কারাগার ওয়েব সিরিজ রিভিউ - 3
রিভিউ লিখেছেন- Maruf Hasan
দেখে নিলাম 'কারাগার'....
নো স্পয়লার
গল্পের প্লট অবাস্তব, অকাল্পনীক। যেই টান টান উত্তেজনা নিয়ে সিরিজটি দেখতে বসেছিলাম- সেই টান টান উত্তেজনা পাই নি।
থ্রিলার সিরিজ গুলোতে সাধারণত মিনিটে মিনিটে মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়- অন্যরকম একটা সাসপেন্স কাজ করে।উত্তেজনা কাজ করে।কারাগারে সেই সাসপেন্স পাই নি।স্ক্রিপ্টে আরো নজর দেয়া উচিৎ ছিল।
চঞ্চল চৌধুরীর কস্টিউম, এক্টিং ন্যাচারাল ছিল।বাকিরাও স্বাভাবিক ছিল।তবে সংলাপ ডেলিভারি স্লো ছিল।যা দেখতে ও শুনতে বোরিং লেগেছে।
বিজিএম খুবই বাজে।থ্রিলারে বিজিএম খুবই গুরুত্ব পূর্ণ সাবজেক্ট।
ক্যামেরার কাজ অসাধারণ ছিল।
হইচই এর 'মহানগর ' 'তাকদীর ' দেখে যতটা ভাল লাগা কাজ করেছিল, 'কারাগার ' দেখে ঠিক ততটাই হতাশ হইলাম...
পারসোনাল রেটিং- ৪/১০
কারাগার ওয়েব সিরিজ রিভিউ - 4
রিভিউ লিখেছেন- Loud Ci Aloldo
#কারাগার
রেটিং ৯+/১০
#অনেক_বেশি_স্পয়লার
#অনেক_স্পয়লার
#যারা_একবার_পড়েছেন_আবার_পড়ুন_কেননা____হিউজ_জিনিস_মিস_হয়ে_গেছিলো_প্রথমবার_নতুন__করে_যুক্ত_করেছি।
যারা দেখেননি তারা প্লিজ পড়বেননা। আর এটায় আমি রিভিউ দিচ্ছি না।পার্ট ২ এ কি কি হতে পারে তা নিয়ে সম্ভাবনা বলছি মাত্র।
শাওকী কিছুদিন আগে কলকাতার সব বড় বড় রিভিয়ারদের ইন্টারভিউ দিয়েছেন।সেখানে তিনি বারবার বলেছিলেন যে এটা সাথে আমাদের ইতিহাস জড়িত।যেহেতু চরিত্র এবং ঘটনার সময় অনেক পুরানো তাই আমি ভেবেছিলাম এতে মনে হয় পলাশীর যুদ্ধের কিছু হিডেন ট্রুথ কে সামনে আনা হবে।তবে সিরিজ দেখে তা মনে হয়নি।আসলে আমাদের দেশজ জীবনের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট অধ্যায়,মুক্তিযুদ্ধ,এটাকেই ক্যারি করা হয়েছে।যা আমার চিন্তাতেও ছিলোনা।
পরবর্তী সিজনে যা হতে পারে ১ম সিজনেই তার কিছু আন্দাজ করা যায়।তা সত্য হবে, নাকি পরিচালক আবারো নাকের ডগায় ছুরি ঘোরাবেন ও বোকা বানাবেন তা জানতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবেনা।
যারা সিরিজটি দেখেছেন তারা হয়তো বুঝবেন কারাগারটিতে দু দলের মানুষ আছে।এক.অপরাধী এবং ধূর্ত
দুই.নিরপরাধ
স্বয়ং জেলার,তার সহায়ক,তার স্ত্রী,ছেলে প্রথম দলে।এবং কিছু কয়েদি অন্য দলে।
সিরিজে মেটাফোর হিসেবে একটি বিড়ালকেও দেখানো হয়।এবং তার চরিত্রের বিল্ডআপ দিতে গিয়ে বলা হয় বিড়ালরা সত্য ও সুন্দরের আশেপাশে থাকে।
এবার কথা হলো চঞ্চল কোন পক্ষে?ও কি ১ম নাকি ২য় দলের সদস্য?বিড়ালের কথাকে কেন্দ্র করে ভাবলে চঞ্চল দ্বিতীয় দলে।কেননা সিরিজের একটি অংশে দেখা যায় বিড়ালটি চঞ্চলের কোলে।আর আগেই বলা হয়েছিলো বিড়ালরা পবিত্রতার পক্ষে।
দ্বিতীয় কথা,চঞ্চল কে?সে কেনো এখানে?এই উত্তর পেতে হলে সিরিজটির শেষ মূহুর্তে যেতে হবে যখন ফারিন ফাদারের রুমে একটি বই খুঁজে পায় ও যার লেখককে দেখতে চঞ্চলের মতো।এবং বইটি আবার মুক্তিযুদ্ধের ওপর।
আপনারা যারা তাকদীর দেখেছেন,শাওকী ঘটনাপ্রবাহের ছাপ রাখতে সর্বদা মেটাফোর ইউজ করেন। তাকদীরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনি "আপেল"কে মেটাফোর হিসিবে দাঁড় করিয়েছিলেন। এই সিরিজে আমি দুটো জিনিস ধরতে পেরেছি।তার মধ্যে একটি হলো শিপ(sheep=ভেড়া),অপরটি বিড়াল।ভেড়াকে শুধু বইয়ের নামেই নয় আরেকটা ইম্পরট্যান্ট জায়গায় দেখানো হয়েছে।যে জেলের অফিসার চঞ্চলকে মরিচের গুড়া মাখাতে ও গু খাওয়াতে পরামর্শ দেয় উনার মোটরসাইকেলের সামনে ভেড়া এসে পরায় তিনি এক্সিডেন্ট হন।
আবার এক বোরকাওলা মহিলাকে জেলারকে ফলো করতে দেখা যায়। তিনিই কিন্তু জেলের কারো সাথে দেখা করেতে পারমিশন ছাড়া জেলে ঢুকেন যা ১ম পর্বের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়।তারমানে ভেতরে এমন কিছু আছে/হয় যা শকিং।সিরিজে মাজারকেও বারংবার দেখানো হয়েছে। হতে পারে তার আশেপাশেই লুকানো রয়েছে কোন গুঢ় সত্য।
তাহলে আমার মতে পরবর্তী পার্টে দেখা যাবে চঞ্চল/তার পরিবারের ৭১ এর যুদ্ধের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে।ফারিনের বাবাও এর সাথে যুক্ত।এটাও হতে পারে চঞ্চল-ফারিন ভাই বোন।কেননা শেষে চঞ্চল বলেছিলো তার মায়ের অবস্থা ভালোনা।আবার সিরিজ জুড়ে দেখানো হয় ফারিনের মা অনেক অসুস্থ।আমার মতে ওই জেলে ৭১ এর যুদ্ধের কোন এক রাজাকার লুকিয়ে বসে আছে।তাকে হয়তো উর্ধ্বতন কেউ সহায়তা করছে।এবং চঞ্চল তাকেই খুন করতে বা শাস্তি দিতে বা কোনো সত্য খুঁজে বার করতে জেলে গেছেন।এবং চঞ্চলকে জেলের ভেতর ঢুকানোতেও একজন জেল সংশ্লিষ্ট লোকেরই হাত আছে।
#পরে_যুক্ত_করেছিঃ
ও মাই গড। একটা ইম্পরট্যান্ট ছবি মিস করে গেছি।শেষ পর্বে ফারিন ফাদারের রুমে গিয়ে রুম ঘুরে দেখতে থাকে।তখন দেয়ালে একটা সাদাকালো ছবি দেখে থামে ও টেবিলে বই দেখে।বাট টেবিলের বইয়ের দিকে তাকাতে তাকাতে এর কথা সবাই মিস করে গেছে মনে হয়।এই ছবিটা অনেকেই চিনবেন।অনেকেই চিনবেন না।৭১ এ পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তার দ্বারা গনহারে ধর্ষনের ফলে লাখ লাখ মহিলা কনসিভ করতে শুরু করে।তখন বিদেশ থেকে অসংখ্যা ডাক্তার এনে ওনাদের এবরশন করানো হয়।সেসময় প্রায় ২৫০০০ নারী গণধর্ষণের ফলে পেটে আসা বাচ্চাকে পৃথিবীর মুখ দেখায় কেননা তাদের এবরশন করাতে দেরী হয়ে যায়।এবং কমরে ২ লাখ মহিলাদের এবরশন করানো হয়।এদেশের পরিবারগুলো তখন সেসময় জন্ম হওয়া সন্তানদেরকে গ্রহন করতে অস্বীকার করে।ফলে বিদেশি অনেক এনজিও /নিঃসন্তান দম্পতি অনেক বাচ্চাদের দত্তক নিয়ে নেয়।সাদাকালো ছবিটা সেটারই।
এবার আবার গল্পে ফিরি।ফারিন ফ্রান্সে ছিলো।তারমানে এমনও হতে পারে সে দত্তক নেয়া কোনো যুদ্ধের সময় জন্মানো অবৈধ বাচ্চা।তবে তা হওয়া সম্ভব না।কেননা সিরিজে তার বয়স কম।সে হিসেবে ফারিনের বয়স হওয়ার কথা এট লিস্ট ৪০-৪৫+।কিন্তু চঞ্চলের বয়স বেশি দেখা যায়।বইয়েতে তার নামও বিদেশি (DAVID ADAMS).অর্থাৎ চঞ্চলও এতোদিন ফ্রান্সেই ছিলো মনে হয়।এবং হয়তো তাদের মা কে ধর্ষণ করা লোকটি এখানেই বন্দি।সেই প্রতিশোধ নিতেই তারা এখানে।অথবা তাদের পিতা তাদের মেনে নেয়নি তিনি এ জেলেই।তাকে শাস্তি দিতে তাদের এই পরিকল্পনা।এটি সত্য হলে ডিবির লোকটিও ওনাদের প্ল্যানের অংশ হয়ে থাকতে পারে।কেননা ফারিনকে উনিই জেলে ঢোকায়।
জানিনা অনুমান কতটুকু সত্য।অনুমানগুলো সত্য না হয়ে অন্যকোনো দিকে মোড় নিলেই খুশি হবো।
কারাগার ওয়েব সিরিজ রিভিউ - 5
রিভিউ লিখেছেন- MD Omar Khoyam
বাংলাদেশের আজ অব্দি যত্তগুলো ওয়েব সিরিজ হয়েছে তার মধ্যে এই "কারাগার" সিরিজ টা সবচেয়ে বেস্ট অফ ওয়ান বললে এইটা সম্পূর্ণ রূপে ভূল হবে।
Web Series কারাগার
Season 01
Episode 07
DIRECTOR
সৈয়দ আহমেদ শাওকী
STARRING চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, তাসনিয়া ফারিণ, এফ এস নঈম, আফজল হোসেইন সহ আরও অনেকে।
IMDB 9.2/10
PR 5/10
হালকা স্পয়লার এলার্ট
#personalopinion
আকাশনগর সেন্ট্রাল জেলের সেল নাম্বার ১৪৫ গত পাঁচ দশক ধরে বন্ধ অই সেল এই কোনো কয়েদি থাকতেই চাই না কারণ অই সেল এই রাতে কোনো কয়েদি রাখলে সকালে অই কয়েদি আর জীবিত বের হয় না।
অথচ সেই সেলেই উদয় হয়েছে এক অচেনা, অজানা, রহস্যময় কয়েদির।
কে এই আগন্তুক আর সে এখানে কি করে পৌছালো?
সে নিজেকে মীর জাফর এর খু*নি দাবী করে অর্থাৎ সে জেলে ২৫০ বছর ধরে বন্ধী আছে এমন দাবী করে সে।
প্রশ্ন যে সেল ৫০ বছর ধরে বন্ধ অই সেলে এই কয়েদি আসলো কিভাবে আসলে ও এত্তদিন জীবিত আছে কিভাবে?
২৫০ বছর তো আর মুখের কথা না?
সব মিলইয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর এর জন্য এই সিরিজ টি দেখতে বসেছিলাম কিন্তু সিরিজ শেষ করার পর কোনো উত্তর তো মিলে নি মিলে নি আরও অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে উল্টো।
প্রথমে 'ই বলে রাখি এইটার আই এম ডি বি দেখে এতো চমকানোর কিছু নাই আমরাতো হুজুগে বাঙালি বলে কথা। দুই দিন পর অটোমেটিক কমে যায় এসব আই এম ডি বি রেটিং।
এইবার আসি মূল কথায়,,,
কারাগার মেকারস রা মূলত সিজন ০১ এই কোনো প্রকার কোনো উত্তর কিংবা ধোয়াশা দূর করার জন্য এই সিজন বানায় নি এরা এই সিজন বানিয়েছে আরও অধিকতর প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার জন্য।
কারাগারে দেখা যায় বার বার ইন্টারোগেশন হয় যা বাস্তবে সম্পূর্ণ অসম্ভব এত্ত বড় একটা ঘটনা সম্পূর্ণ গোপন রেখে বার বার ইন্টারোগেশন করা
এই ছাড়াও এই সিরিজ টি আমরা মূলত দেখতে বসি ১৪৫ নাম্বার কয়েদি সম্পর্কে জানতে কিন্তু পুরো সিজন জুড়ে বেশীরভাগ দেখানো হবে Intekhab তাসনিয়া ফারিন এর পারসোনাল কাহিনী Fs nayeem এর অফিসিয়াল কাহিনি ইত্যাদি ইত্যাদি এই ছাড়াও একটা সেন্ট্রাল জেলে কয়েদি আছে ১৪৫ নং ব্যাতিত ৩২৫ জন আর পুলিশ রয়েছে শুধুমাত্র ৫ জন মতো এই গুলো সম্পূর্ণ বেমানান।
এই ছাড়াও এতো আগের কয়েদি বোবাদের সাংকেতিক ভাষায় কথা বলতাছে এইটাও বেমানান মনে হয়েছে।
তবে হ্যাঁ পারসোনাল হিস্ট্রি এর জন্য ১৪৫ নং কয়েদি কে নিয়ে Intekhab Dinar ও তাসনিয়া ফারিন এর ইন্টারেস্ট টা বেড়ে যাওয়া টা সত্যিই ভালো ছিলো।
তবে তাদের পারসোনাল বিষয় গুলো এত্ত বেশী টেনে টেনে দেখানো টা বেমানান ছিলো।
এই ছাড়া ও Intekhab Dinar এর সাথে fs Nayeem এর সাথে একটা তুমুল ঝগড়া'র সিন টা অসাধারণ ছিলো দু'জনের পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ দেখার মতো ছিলো।
এবং এই ছাড়াও তাসনিয়া ফারিন এবং চঞ্চল দুজন একসাথে ৪ নং এপিসোড এর শেষের সিন টা মারাত্মক ছিলো।
সবশেষে এইটুকুই বলবো পাস্ট সিজন দেখে এইটাকে এত্ত আহামরি কিছু ট্যাগ দেওয়া টা ঠিক হবে না।
কেননা এই সিরিজ যে প্রশ্ন গুলো 'কে ঘিরে।
এখনো সেই উত্তর গুলো ই দেওয়া হয় নি।
game of thrones সিরিজ ও পাস্ট সিজন হাই লেভেল এর হাইপ ছিলো সেকেন্ডে সিজন এর পর
সো আপাতত এতটুকু বলা যায় হ্যাঁ বাংলাদেশ ও টি টি প্লাটফর্ম অনেক ভালো কাজ করতেছে আর এই কারাগার সিরিজ এর মূল ক্রেডিট আমি দিবো এইটার লেখক কে।
উনি অনেক ঠান্ডা সুক্ষ্ম চিন্তা ভাবনা করে কাহিনী টা লিখার পাশাপাশি ডায়লগ গুলো ও অসাধারণ ভাবে লিখেছে ধন্যবাদ।
Happy Watching.
.jpg)
0 Comments