কাঠবিড়ালী(Kathbirali) মুভি পাবলিক রিভিউ

Kathbirali 2022 bangla full movie

কাঠবিড়ালী(Kathbirali) সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 1

রিভিউ লিখেছেন- Badhon Cherar Gaan

সাম্প্রতিক বাংলাদেশীয় চলচ্চিত্রে  অল্প কিছু চমক এসেছে। তবে সব মুভি 'হাওয়া'র মত বাজ তৈরী করতে পারেনি। যাদের সিনেমা হলে গিয়ে এখন 'হাওয়া' দেখার সুযোগ নেই তারা 'চরকি'তে আরে একটা আবহমান বাংলার পরশমাখা 'কাঁঠবিড়ালী' মুভিটি দেখতে পারেন। আপনাদের জন্য মুক্তির সময়কার লেখা রিভিউটি দিচ্ছি 

“যতই যত্ন কইরা রাখি, নষ্ট হইয়া গ্যালে কোন কিছু সাথে রাখন ঠিক না”

কাঠবিড়ালী মুভি

#স্পয়লার_এলার্ট 

চলচ্চিত্র মঞ্চ কুমিল্লা'র আয়োজনে, ২০২০ সালের  ১৪ ফেব্রুয়ারি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সুবিশাল মিলনায়তনে বেশ আনন্দঘন পরিবেশেই উপভোগ করেছিলাম নিয়ামুল মুক্তা পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘কাঠবিড়ালী’।

আমাদের চিরায়ত গ্রামীন পটভূমিতে দুষ্টু ছেলে, মিষ্টি মেয়ে, কঠোর সমাজ, নিষ্ঠুর চেয়ারম্যান—এমন বাঁধাধরা কাঠামোতে তৈরি অতীতের শত শত সিনেমার মতই গতানুগতিক একটি সিনেমা দেখব ধারণা করেই হলে প্রবেশ করেছিলাম। বলাবাহুল্য মুভির ট্রেলার, পোস্টার, গানগুলোও অমন ইঙ্গিতই দিয়েছিল। কিন্তু যখন মুভিটি শেষ হল, “এ আমি কি দেখলাম / কি জিনিস বানাইছে তারা / ডিরেক্টরের সাহস আছে কইতে হয়” – এই ধরনের মন্তব্য শুনতে শুনতে অথবা ভাবতে ভাবতে হল থেকে বের হয়েছি।

সত্যি কথা হল, আমার মত যারা দুষ্টু প্রেমের মিষ্টি গল্প দেখবেন বলে ‘কাঠবিড়ালী’ দেখতে যাবেন তারা সবাই আমার মতই অবাক হয়েই হল থেকে বেরুবেন- এটা গ্যারান্টি। এবং আপনার টিকেটের টাকাটা মোটেও জলে যাবে না। যদিও মুভিতে প্রচুর জলাধারের দৃশ্য আছে; এবং মুভির শেষ দৃশ্যটিও পানিতেই শেষ হয় তবু টাকা জলে ফেলার অনুভূতি হবে না। 

যারা মুভিটি এখনো দেখেন নি কিন্তু দেখার ইচ্ছে আছে- তারা এটুকু পড়ে নির্দ্বিধায় অনলাইন স্ট্রিমিং এ দেখতে পারেন। বাকিটা পড়লে আপনার মুভি গোয়িং এক্সপিরিয়েন্স নষ্ট হবে। কারণ এখন আমি ডিটেইলসে ‘কাঠবিড়ালী’ মুভিটি বিশ্লেষনের চেষ্টা করব। 

প্রথমেই এই অনবদ্য গল্পটি ভাবার জন্য এবং ভেবে নির্মাণ করার জন্য আমি কাহিনীকার ও পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার ভূয়সী প্রশংসা করব। নিঃসন্দেহে তিনি তার ভাবনার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আবহমান বাংলার গ্রামীন জনজীবনে তিনি নির্ভেজাল সাদা-কালো সামাজিক প্রেমের গল্প না বানিয়ে; গ্রে শেডে  বাস্তবিক মানবচিত্র আঁকতে চেয়েছেন তা অবশ্যই আধুনিক দর্শক হিসেবে আমাদের স্বীকার করতে হবে।

শুধুমাত্র নিখাঁদ ভিক্টোরিয়ান প্রেম আমাদের জীবনকে ‘হ্যাপিলি এভার আফটার’ বানাতে পারে না, কোন প্রেমের চূড়ান্ত পরিনতি বিয়ে নয়, বিয়ে দিয়েই একটা মুভির গল্প শেষ হয়ে যায় না, আপাতদৃষ্টিতে কিউট-সুইট নিষ্পাপ ছেলেমেয়েগুলো আজীবন এমন অম্লান থাকে না, পবিত্র প্রেমের অটুট বৈবাহিক সম্পর্ক সর্বদা পারফেক্ট হয় না, মনের পাশাপাশি শারীরিক চাওয়া পাওয়ার হিসেব নিকেশ খালি শহুরে উচ্চশিক্ষিতা নারীটি নন; গ্রামের স্বল্পশিক্ষিতা কুলবধূটিও অনুভব করতে পারেন—এই তীব্র সত্য কথাগুলো অসাধারণ সুকঠিন দৃঢ়তায় ফুটিয়ে তুলেছে ‘কাঠবিড়ালী’ মুভি। 

পাশাপাশি পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা ভেঙ্গেছেন কিছু প্রথাগত চরিত্র চিত্রায়নঃ

আজন্ম দেখে আসা নায়কের বন্ধু বা নায়িকার বান্ধবী খালি ত্যাগিভাবে নায়ক-নায়িকার উপকারে উপকারে আসবেন / তাদের জীবনের সবটুকু দিয়ে নায়ক-নায়িকাকে সুখী ও পূর্ণ করবেন, গ্রামের ক্ষমতাশীন চেয়ারম্যান তার কূটবুদ্ধি দিয়ে পুলিশ আর মানুষকে প্রভাবিত করে স্বার্থসিদ্ধি করবেন, নায়ক মহামানব গোছের অতিমানবীয় পৌরুষের অধিকারী হবে, নায়িকা তার জীবনের বিনিময়ে হলেও সতীত্ব রক্ষা করবে; এই চিরন্তন ব্যাপারগুলো এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বাংলা সিনেমার নতুন এক ঐতিহাসিক ধারা শুরু হয়েছে ‘কাঠবিড়ালী’ মুভিটির মাধ্যমে।

যারা মুভিটি দেখেছেন তারা নিশ্চয় এক বাক্যে আমার উপরোক্ত কথাগুলোর সাথে একমত হবেন। নিয়ামুল মুক্তার ন্যারেশনকে এগিয়ে নিতে আসাদুজ্জামান আবির, সায়িদ জামান শাওন, শাহরিয়ার ফেরদৌস সজীব এবং অর্চিতা স্পর্শিয়া; প্রধান চরিত্র হিসেবে তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। 

তবে অভিনেতাদের চেয়ে টেকনিক্যালি মুভির ন্যারেটিভকে এগিয়ে নিতে ২টি ডিপার্টমেন্ট অনন্য সাধারণ কাজ করেছেঃ

প্রথমটি হল- আদিত্য মনিরের চোখ ধাধাঁনো সিনেমাটোগ্রাফি; দ্বিতীয়টি হল- রেদোয়ান আহমেদ, আদিল ইমাম অনূপ এবং রায়ান ইশতিয়াক সনেটের সূক্ষ্ম আর্ট ডিরেকশান।

‘কাঠবিড়ালী’ মুভির এই দুটি বিভাগ নিয়ে কোন কথা হবে না। নিঃসন্দেহে এমন অপূর্ব সুন্দর গ্রামীন জনজীবনের প্রতিচ্ছবি তৈরী ও ধারনে উক্ত দুটি টিম তাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। মুভির একটি ফ্রেমকেও বানোয়াট মনে হয় নি। সেট ডিজাইন দেখে কোনভাবেই ২০২০ সালের যান্ত্রিক জীবনের কথা মাথায় আসেনি। কোন দৃশ্যেই আধুনিক জীবনের অভিশাপ সদৃশ মোবাইল ফোন বা অন্য কোন যন্ত্রাদি ব্যবহৃত হয় নি; এমন কোন প্রপস কোথাও চোখে পড়ে নি- যাতে মুভিটির মূল সুর ব্যাহত হয়। 

বরঞ্চ বর্তমান বাংলায় প্রায় বিলুপ্ত হওয়া চড়ক মেলা, হাড়িভাঙ্গা খেলা, কাবাডি খেলা, মাটির চুলায় রান্না, গরম মুড়িভাজা, রুমালে ফুলতোলা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো চরমভাবে আপনাকে নস্টালজিক করে তুলবে।

তবে কি ‘কাঠবিড়ালী’ আপাদমস্তক একটি পারফেক্ট মুভি?

না। আমার কাছে পারফেক্ট মনে হয় নি। উলটো পজেটিভ ব্যাপারের চেয়ে নেগেটিভ দিক বেশি তুলে ধরা যাবে যদি খুঁত ধরতে চাই। কিন্তু আমি যেহেতু অত খুঁতখুতে নই, তাই যে কয়েকটা ব্যাপার অতিরিক্ত দৃষ্টিকটু লেগেছে বা আমার মগজে ঠিক খাপ খায় নি তা তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ

এ মুভির সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক আমার কাছে মনে হয়েছে এর সম্পাদনা। এডিটর আশিকুর রহমান সুজনের কাজ দেখে মনে হয়েছে তিনি ক্যামেরা থেকে খাবলা খাবলা কিছু দৃশ্য তুলে ধরে পাশাপাশি সাজিয়ে রেখেছেন মাত্র, ভাল করে মেশান নি। শতকরা ৭০ ভাগ সময়ে, এক দৃশ্য থেকে অন্য দৃশ্যে যাবার সময় স্পষ্টভাবে দর্শকের মনযোগ সরে গেছে। ঠিক একসুরে ফুলগুলো গেঁথে মালাটা গাঁথা হয় নি। 

বিশেষ করে মুভিতে ব্যবহৃত ৩টি গানের শুরু আর শেষে এই এডিটিংয়ের দক্ষতার অভাব স্পষ্ট চোখে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ‘স্ক্রিন প্লে রাইটার’ তাসনিমুল হাসানের দায়ও আছে। 

একটা উদাহরণ দেই—মুভির প্রথম ৫ মিনিটের মাথাতেই নায়ক হাসু-নায়িকা কাজলের প্রথম সাক্ষাৎ দেখি আমরা রাতের বেলা জানালার এপাশ-ওপাশ থেকে। তারপরেই তাদের সম্পর্ক বিষয়ে আমাদের ধারণা দিতে শফি মন্ডলের কন্ঠে ‘সুন্দর কন্যা’ শিরোনামের গানটি শুরু। কিন্তু এই গানটির সূচনা সঙ্গীত নেপথ্যে চলতে চলতে হাসুর বন্ধু আনিস আর তার আনিসের বউ বিলকিসের মধ্যকার ২টি ডায়ালগের দৃশ্যটি কী খুব দরকার ছিল? 

আনিস আর তার বউয়ের টক্সিক রিলেশনশীপের তীব্র দৃশ্য কিন্তু অলরেডি মুভিতে আছে। ওই দৃশ্যটির আদৌ কি প্রয়োজন ছিল?

গানের কথা যখন এল তখন বলতেই হয়- কাঠবিড়ালী মুভিতে খুব হৃদয়গ্রাহী কিছু গান আছে। বিশেষ করে আমার পার্সোনাল ফেবারিট গানটি হল ‘পতি’। আমার প্লে লিস্টে মুভি চলাকালীনই গানটি এড হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল গানগুলো শেষ হবার পরপরেই আমি তা ভুলে গেছি। গানগুলো স্ক্রিনেই রয়ে গেছে। আমাদের ঠোঁটে উঠে আসেনি। হল থেকে বের হবার ঠিক কজন দর্শকের মাথায় সুরগুলো রয়ে গেছে তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

সব মুভির সব গান স্থায়ী হবে এমন কোন নিয়ম নেই। তবে ‘কাঠবিড়ালী’ মুভির গানগুলো হতে পারতো। সম্পাদনা আর স্ক্রিনপ্লে আরেকটু স্মুথ হতে পারতো। 

এই লেখার শুরুতে আমি পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার আলাদা ভাবনার প্রশংসা করেছি। চিরায়ত চরিত্রগুলোর আলাদা চিত্রায়নের জন্য অবশ্যই ‘কাঠবিড়ালী’ শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করতে পারে! কিন্তু এই ব্যাপারগুলো স্ক্রিনে আসতে আসতে দর্শক ক্লান্ত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্ত হয়ে গেছে। 

মুভির শুরুতেই দেখানো টুম্পা নামক মেয়েটির হত্যা, চেয়ারম্যানের ঘুষে আজগরের বেঁচে যাওয়া এই দৃশ্যগুলো পরিচালকের নতুন ভিশনের সরাসরি পরিপন্থী। মুভির মূল চরিত্র হাসু-কাজল-আনিসের সাথে আজগর, চেয়ারম্যান এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর যেভাবে জড়িয়েছে তার সাথেও সরাসরি সাংঘর্ষিক প্রথম ঘটনাগুলো। 

কাঠবিড়ালী মুভির নায়ক হাসুর সহজ-সরল জীবন-যাপন, পরোপকারী মনোভাব, বোকাসোকা আচরণ যতটা সুন্দর করে উপস্থাপিত হয়েছে ততটাই দরকার ছিল হাসুর পেট চলে কি করে তা দেখানোর। হাসুকে আমরা মেলা কাজে দেখেছি- মানুষের জন্য মাছ ধরা, পোলাপানের সাথে ফুটবল এবং খেলা, কাকাকে নিজের জমি দিয়ে বিনিময়ে টাকা না পাওয়াঃ কিন্তু তার ঘরে খাবার আসতো কিভাবে? সে বাজার করতো কি দিয়ে? সেকেন্ড হাফের ঠিক শুরুতেই ইটভাটার কাজে চলে যাওয়ার আগে হাসু-কাজলের সুখের ঘরে পেট চালাতো কে তার জবাব পাই নি।

একইভাবে জবাব মেলে নি- গ্রামের প্লে বয় হিসেবে আবির্ভুত হওয়া আনিসের অন্তর্ধানের পর যেসব কনসিকোয়েন্স হওয়ার কথা তা কেন হয় নি? বিলকিসের কান্না দেখেছি, রুমাল উপহার দেয়া শায়লার অবস্থা কি হল?

সবশেষে নিয়ামুল মুক্তার যেভাবে যে অনুভুতি দিয়ে মুভিটি শেষ করেছেন তা মগজে ঠিকমত গ্রহণ করতে পারি নি আমি। আমি জানি সিনেমা সমাজের প্রতিচ্ছবি। এই সমাজে ক্ষমতাসীনেরা অন্যায় করে বেঁচে যায়! পুলিশেরা ঘুষের বিনিময়ে অপরাধী ছেড়ে দেয়। আসল অপরাধী প্রমাণের অভাবে ধরাছোয়াঁর বাইরে থাকে। ‘কাঠবিড়ালী’ মুভিটিও এই সমাজের রূপ দেখিয়েছে। 

পরান(Poran) সিনেমার পাবলিক রিভিউ

কিন্তু পরিচালক তার ব্যকগ্রাউন্ড মিউজিক আর চরিত্রদের পরিণতি দেখিয়ে এইসব অন্যায়কারীদের প্রতি দর্শকের মমতা জাগাবার চেষ্টা করেছেন। 

স্কুলগামী মেয়েদের ইভটিজিংকারী, মেয়ের মাকে হুমকিদাতা, বাড়ির ভিতরে এসে গৃহবধূর শ্লীলতাহানিকারী এবং টুম্পার সম্ভাব্য খুনী আজগর যখন অন্যের অপরাধের দায়ে ফাঁসির কাছাকাছি তার প্রতি একধরণের করুণা সৃষ্টির অপচেষ্টা পরিচালক করেছেন।

একইভাবে হাসু ও কাজলের পরিণতিতেও তাদের প্রতি মায়া জাগানোর মত দৃশ্যাবলী তৈরী করা হয়েছে কাঠবিড়ালীতে। একমাত্র আনিসের জীবনাবসানটি ঠিকমত তার অপকর্মের জাস্টিফিকেশন বলে ধরা যেতে পারে। বাকি চরিত্রগুলো ক্ষমা করে দেবার মত ছোটখাট অপরাধ করে নি। তাদের প্রতি সমান কঠোর হয়েও নীতিগতভাবে কাঠবিড়ালী শেষ হতে পারতো।

শেষকথা, পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা এবং তার ‘কাঠবিড়ালী’ মুভিটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কমার্শিয়াল আর্ট ফর্ম নামক এক নতুন ধারার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়েছে। আলোচনা-সমালোচনার প্রচুর স্কোপ থাকলেও পয়সা উসুল মুভি হিসেবেও সব শ্রেণীর দর্শক সমাদৃত হবার মত মুভি। যদিও ‘এডাল্ট রেটিং’ থাকলে কিছু কিছু দৃশ্যধারণ আরো স্বার্থক হত- মার্কেটিংয়েও বুস্ট পেত। তারপরেও শুভকামনা । এই টিমের পরবর্তী কাজের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকবো।

বাংলা সিনেমার জয় হোক.....

এক ভিলেন রিটার্নস(Ek Villain Returns) সিনেমার পাবলিক রিভিউ

বিক্রান্ত রোনা (Vikrant Rona) মুভি রিভিউ | কিচ্ছা সুদীপ 

প্যাসেঞ্জার (Passengers) মুভি রিভিউ 

কাঠবিড়ালী(Kathbirali) সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 2

রিভিউ লিখেছেন- Irfan Tamim

ফিল্ম: কাঠবিড়ালী
পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০
স্পয়লার এলার্ট
আমার বস্তা পঁচা বাংলা মুভি দেখা হয় না বললেই চলে। কিন্তু 'কাঠবিড়ালী' চলচ্চিত্রের মতো এত চমৎকার গল্পে নির্মিত বাংলা মুভি আগে দেখিনি। মুভি তৈরিতে বাজেটের চেয়ে গল্প, ইচ্ছা এবং সৃজনশীলতা যে বেশি গুরুত্ব বহন করে এ চলচ্চিত্রটা তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
বাংলা চলচ্চিত্রে সল্প বাজেটে এতো অনবদ্য ছবি আমাদের উপহার দিতে পারে তা এই মুভি না দেখলে কেউ বুঝতে পারবেন না। থ্রিল, রোমান্টিক আর গ্রামীণ পরিবেশে অসাধারণ দৃশ্য নিয়ে পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার প্রথম ছবি 'কাঠবিড়ালী'। কাহিনীচিত্র এই চলচ্চিত্রে নির্মাতা দারুণ ফুটিয়ে তুলেছেন। অভিনয়ে ছিলেন অর্চিতা স্পর্শিয়া, আসাদুজ্জামান আবীর, সাঈদ জামান শাওন ও তানজিনা রহমান তাসনিমসহ আরও অনেকে।
মুভির শুরু টুম্পা নামে একটা মেয়ের রহস্যঘেরা মৃত্যু নিয়ে। এরপর দেখা যায় গল্পে হাসু নামের একজন সহজ সরল ছেলে গ্রামের সবার বিপদে পাশে থাকে এবং যে যাই করতে বলে তাই করে,,,হাসুর কাছের বন্ধু আনিস। যার সাথে হাসুর বন্ধুত্ব ছোটবেলা থেকেই। হাসু কাজল নামে একটি মেয়েকে পছন্দ করে, যাকে সে পরবর্তীতে বিয়ে করে। এদিকে চেয়ারম্যানের ছেলে আজগরও কাজলকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চাই। চেয়ারম্যানের ছেলে চরিত্র খারাপ থাকায় তাকে জোড় পূর্বক সৌদিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং শর্ত থাকে যখন সে দেশে ফিরে আসবে কাজলের সাথে বিয়ে দিবে কিন্তু দেশে আশার পর দেখে কাজলের বিয়ে হয়ে গেছে। তারপর শুরু হয় গল্পের মোড়, কাজল খুন হয়ে যায় এবং কে সেই খুন করলো, সেই খুনের রহস্য দেখতে হলে  ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিটের দুর্দান্ত মুভিটা আপনাকে দেখতে হবে।
মুভির গল্পটা যেমন সুন্দর গানগুলোও ছিল তেমন সুন্দর। এক কথায় আপনার চোখের একটা শান্তি পাবেন যে গানগুলো গাওয়া হয়েছে একদম গ্রাম বাংলার চিত্রনাট্যে গ্রাম বাংলার বিষয়গুলো সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মুভির সংলাপ গুলোও ছিল দুর্দান্ত। এর মধ্যে আমার যেটি ভালো লেগেছে তা হলো "ভালো লাগা বা যতই যত্নবান জিনিস হোক, তা নষ্ট হয়ে গেলে ফেলে দিতে হয়"। বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য এমন মুভি  আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা যোগায়।

কাঠবিড়ালী(Kathbirali) সিনেমার পাবলিক রিভিউ  - 3

রিভিউ লিখেছেন- Jahid Hossain Jelani

কিঞ্চিত স্পয়লার থাকতে পারে
এক স্বস্তির নাম “কাঠবিড়ালী”
প্রতিবছরেই ৫০ বা ৬০ টা করে মুভি রিলিজ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তবে এর থেকে মাত্র একিটা বা দুটা সিনেমাই হিয় দেখার মত “কাঠবিড়ালী” সেই সিনেমাগুলোএ মধ্যেই একটি।যা দেখে আপনি একটু হলেও তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবেন।
  • স্টোরি লাইন:গ্রামের সহজ সরল এতিম ছেলে হাসু এবং তার প্রেমিক কাজলের প্রমময় কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে সিনেমার গল্প।অতঃপর তাদের প্রেমের প্রণয় হয় বিয়ের মাধ্যমে,তার পর শুরু হয় অভাব-অনটন,লোভ-লালসা,হিংসা-বিদ্বেষ, এত এত টানাপড়েন এর সমাপ্তি কি করে হবে,তা জানতে হলে দেখতে হবে আপনাকে এ সিনেমা।
  • সিনেমাটি ভাল লাগার কারন:অসম্ভব সুন্দর ভাবে গড়ে তুলা হয়েছে সিনেমার মূল প্লটটি।বাংলাদেশের সিনেমাই সর্বদাই গ্রাম গঞ্জের প্রেম খুবি দৃষ্টি নন্দন ভাবে উপস্থাপন করা হয়।এই খানেও সেই ধারা বজায় ছিল।এছাড়া গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবি দারুন ভাবে আপনার সামনে উপস্থাপন করা হবে।তবে গল্পের মূল প্লটটি যদি শুধু এই টুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত তবে আমার কাছে এই সিনেমা নিন্তান তোই এভারেজ হয়ে থাকত।আমি গল্প টিকে বেশী একটা রিভিল করতে চাই না,তবে শুধু এই টুকু বলব এটি একটি “রোমান্টিক মিস্ট্রি থ্রিলার” সিনেমা।প্রথম হাফ কিছুটা সাদামাটা লাগলেও দ্বিতীয় হাফ আপনাকে এই সিনেমার প্রেমে পরতে বাধ্য করবে।
সিনেমাটির কিছু তথ্য:

এটি নিয়ামুল হাসান মুক্তার প্রথম ডিরেক্ট করা ছবি,এর আগে তিনি রেদওয়ান রনির এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর ছিলেন।কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকা আসাদুজ্জামান আবীরের প্রথম সিনেমা এটি।
ছবিটির শুটিং শুরু হয় ২০১৭ সালের ২রা মার্চ এবং প্রায় দুই বছর ধরে এ সিনেমার শুটিং চলে।এত সময় নিয়ে সিনেমা বানানোর একটি বড় কারন ছিল বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সৈন্দর্য বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য।
পুরো সিনেমাটার শুটিং করা হয় পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা উপজেলার গজাড়পারার ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে যা ছিল ডিরেক্টরের নিজের গ্রামের বাড়ি।
নিয়ামুল হাসান মুক্তার ভিশন ও পেশন দেখে মুভির অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলীরা বিনা পারিশ্রমিকে এ সিনেমাই কাজ করেছেন,তাই খুবি অল্প বাজেটে নিয়ামুল মুক্তা আমাদের কাছে এই দারুন সিনেমাটি উপস্থাপন করতে পেরেছেন।