Chernobyl 2019 Movie Review
"𝗪𝗵𝗮𝘁 𝗶𝘀 𝘁𝗵𝗲 𝗰𝗼𝘀𝘁 𝗼𝗳 𝗹𝗶𝗲𝘀"?
একটা মিথ্যার দাম কত হতে পারে?
"What is the cost of lies? It's not that we'll mistake them for the truth. The real danger is that if we hear enough lies, then we no longer recognize the truth at all."
-𝗩𝗮𝗹𝗲𝗿𝘆 𝗟𝗲𝗴𝗮𝘀𝗼𝘃, "𝗖𝗵𝗲𝗿𝗻𝗼𝗯𝘆𝗹".
ভ্যালারি লেগাসভ চরিত্রে অভিনয় করা জ্যারেড হ্যারিসের এই কথাটাই প্রমান করে যে মিথ্যা কতটা ভয়ানক হতে পারে। সেই মিথ্যার মুল্য চোকাতে শেষ পর্যন্ত কি দিয়ে তার ঋন চোকাতে হয়।
আমরা সবাই জানি সত্যের মুল্য হয় সবথেকে বেশি। সত্য হচ্ছে সূর্যের মত চিরন্তন যার আলো সমস্ত কিছুতে প্রানের সঞ্চার করে। কিন্তু মিথ্যা?
যখন কোনো সত্যতাই আমাদের কিঞ্চিৎ কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা উঠে আসে বা সেই সত্য শুনে কষ্ট পাবো বলে মনে হয়, আমরা তখন একের পর এক মিথ্যা বলেই যায়। শেষ পর্যন্ত আমরা আমরা ভুলেই যাই সত্যের অস্তিত্ব। কিন্তু সেই অস্তিত্বকে কখনও মোছা যায় না। প্রতিটি মিথ্যাই সত্যকে ঢেকে রাখার জন্য চড়া ঋণে কেনা একেকটি পর্দা। আগে হোক বা পরে, সেই ঋণ আমাদের চুকাতেই হয়। আর মিথ্যার এই ঋণ শোধ করতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত জীবন টাও উৎসর্গ করে দিতে হয়।
Series Name: "𝗖𝗵𝗲𝗿𝗻𝗼𝗯𝘆𝗹"
Genre: 𝗛𝗶𝘀𝘁𝗼𝗿𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗗𝗿𝗮𝗺𝗮, 𝗧𝗿𝗮𝗴𝗲𝗱𝘆.
Director: 𝗝𝗼𝗵𝗮𝗻 𝗥𝗲𝗻𝗰𝗸
IMDb Rating: 9.4/10
Personal Rating: 10/10
Rotten Tomatoes: 95%
Adapted from: 𝗩𝗼𝗶𝗰𝗲𝘀 𝗙𝗿𝗼𝗺 𝗖𝗵𝗲𝗿𝗻𝗼𝗯𝘆𝗹.
𝗦𝗽𝗼𝗶𝗹𝗲𝗿 𝗔𝗹𝗲𝗿𝘁: ১৯৮৬ সালের ২৬ শে এপ্রিল মানব ইতিহাসে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা। পরপর প্রায় একই সঙ্গে ২ টি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চেরনোবিল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চতুর্থ পারমাণবিক চুল্লির ওপরের প্রায় এক হাজার টন ওজনের কংক্রিটের ঢাকনা সরে যায় এবং ছাদ ভেঙে যাওয়ার ফলে এক বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায় RBM Reactor Core বিষ্ফোরিত হয়েছে। তিব্র মাত্রায় তেজস্ক্রিয় গ্রাফাইটের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।দুর্ঘটনার ২০ ঘণ্টা পরও জ্বলতে থাকে আগুনের লেলিহান শিখা। আশেপাশের মানুষ (পাওয়ার প্লান্ট থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে) তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে দূর থেকে এই দৃশ্য অবলোকন করতে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনা সভায় আসেন বিস্ফোরণের কারন, তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কতটুকু, এর দ্বারা ক্ষতির সম্ভাবনা কত টুকু এসব নিয়ে আলোচনায় বসে। জানানো হয় তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা খুবই কম। মাত্র ৩.৬ রন্টজেন। যা সাধারন এক্স-রে তে ব্যবহৃত হয়ে থাকেই।
কিন্তু আসলেই কি তাই? চেরনোবিলে ঘটা বিস্ফোরণ ছিলো জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে আছড়ে পড়া পারমানবিক বোমা যা এক লহমায় কেড়ে নিয়েছিলো প্রায় আড়াই লাখ প্রাণ। সেই দুই পারমানবিক বোমার ৫০০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়তা। চেরনোবিলের ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে রক্ষা পেতে বেলারুশ এবং ইউক্রেইনের ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছিলো ৩ লাখেরও বেশি মানুষকে।
𝗦𝘃𝗲𝘁𝗹𝗮𝗻𝗮 𝗔𝗹𝗲𝘅𝗶𝗲𝘃𝗶𝗰𝗵(নোবেল বিজয়ী) ১৯৯৭ সালে তার রচিত বইয়ে ‘ 𝗩𝗼𝗶𝗰𝗲𝘀 𝗙𝗿𝗼𝗺 𝗖𝗵𝗲𝗿𝗻𝗼𝗯𝘆𝗹: 𝗧𝗵𝗲 𝗢𝗿𝗮𝗹 𝗛𝗶𝘀𝘁𝗼𝗿𝘆 𝗼𝗳 𝗮 𝗡𝘂𝗰𝗹𝗲𝗮𝗿 𝗗𝗶𝘀𝗮𝘀𝘁𝗲𝗿 তুলে ধরেন সেই রাতের আসল কথা। পুরো পৃথিবীবাসী জানতে পারে মিথ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল সত্যি টাকে।
বইয়ের পাতায় আজ আমরা যাবো না, বই থেকে চোখ সরিয়ে চোখ রাখবো 𝗛𝗕𝗢 প্লাটফর্মে রিলিজ হওয়া ২০১৯ সালের ৫ পর্বের মিনিসিরিজ "𝗖𝗵𝗲𝗿𝗻𝗼𝗯𝘆𝗹" এ।
৫ পর্বের এই মিনিসিরিজ পুরোপুরি রুদ্ধশ্বাসে পরিপূর্ণ। একটা সেকেন্ড ও চোখ সরাতে পারবেন না। যারা ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছে তারা জানেন। আমি দেখেছি ২০২০ সালে লকডাউনের মধ্যে। কিন্তু রিভিউ লেখা হয়নি।
ভ্যালারি লেগাসভ, বরিস শেরবিনা এবং উলানা খোমিউক মেইন তিনটা চরিত্র। এরাই মুলত চেরনোবিলের আসল পর্দাটা সবার সামনে উন্মোচন করে।
সিরিজের প্রধান তিন চরিত্র উপরতলার আমলারা হলেও, শুরু থেকেই সমান গুরুত্ব পেয়েছে চেরনোবিল বিস্ফোরণের সময় কাজ করা দমকল বাহিনীর এক সাধারণ সদস্য ভাসিলি ইগনেতেঙ্কোর গল্প। প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয়তায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করা ভাসিলির সঙ্গে শেষপর্যন্ত থাকায় গর্ভের সন্তান হারানো তার স্ত্রী লুদমিলার গল্প। উঠে এসেছে সেই আত্মত্যাগী শ্রমিকদের গল্প, যারা তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জেনেও ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দিনরাত খেটে চেরনোবিলের বিস্ফোরিত পাওয়ার প্ল্যান্টের ছাদ থেকে গ্রাফাইটের খণ্ড পরিষ্কার করতে। উঠে এসেছে সেইসব মাইনার দের কথা যারা জানতো চেরনোবিলে মাইনের খনন শেষ হবার পরে তারা বেশি দিন বাচবে না তবু তারা সেচ্ছায় কাজ করেছে, উঠে এসেছে সেই তিন অকুতোভয় কর্মীর কথা, যারা প্রাণনাশের হুমকির কথা জেনে বুঝেই তেজস্ক্রিয়তায় বিষাক্ত পানিতে নেমে পড়েছিলেন আরও বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে চেরনোবিলকে বাঁচানোর জন্য। উঠে এসেছে সেইসব হাসপাতালকর্মী, বিজ্ঞানী, সেনাসদস্য এবং নিতান্ত সাধারণ সেইসব মানুষের কথা, চেরনোবিলের বিস্ফোরণ যাদের জীবনকে পাল্টে দিয়েছিলো পুরোপুরি। বাঁচেনি চেরনোবিলের আগুন নেভাতে ছুটে যাওয়া দমকলবাহিনীর বেশিরভাগই। বিস্ফোরণের কবলে পড়ে সে রাতেই প্রাণ হারান বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনেক কর্মী। প্রিপিয়েত শহরের সেই রেলব্রিজটিতে জড়ো হওয়া মানুষদের কেউই শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি যারা বিস্ফোরনের অগ্নিশিখা দেখতে গিয়েছিলো আর ভেবেছিলো নরওয়ের অত্যাশ্চর্য নর্দান লাইটের একটি খণ্ড যেন ইউক্রেনের আকাশে নেমে এসেছে।
এতবড় ভয়াবহ সত্যকে গোপন করা হলো কেনো? তেজস্ক্রিয়তার পরিমান কি আসলেই ৩.৬ রন্টজেন ছিলো? RBM Core কি আদোও বিস্ফোরিত হতে পারে? ইমারজেন্সি শাটডাউনে কি সিস্টেম বন্ধ হয়েছিলো? সাধারন মানুষের কাছে কেনো মিথ্যা ছড়িয়ে দেওয়া হলো? স্বার্থ কি এখানে?
একটা মিথ্যার দাম কত হতে পারে? আসলেই!
#spoilerfree
+CHERNOBYL (2019)
+ IMDb - 9.4
রবিবার, ছুটির দিন। তাই সারাদিন binge watch এর জন্য Chernobyl সিরিজ টা শুরু করি। লাস্ট এপিসোড দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল। সত্যকে চাপা দিতে আমার সকলে মিথ্যার আশ্রয় নিই মাঝেমধ্যেই। কিন্তু, যদি মিথ্যার সাগরে ডুবে গিয়ে আর সত্যকে চিনতেই না পাই....? তখন তার দায়ভার কে নেবে..?
পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভিশপ্ত দিন, 26th April, 1986..যেদিন অজস্র মিথ্যার দাম দিতে হয়েছিল Pripyat এ বসবাসকারী 50,000 মানুষকে। কারণ, সেদিনই রাত 1:23:45 সময়ে Chernobyl Neuclear Power Plant এর reactor 4 এ explosion ঘটে। প্রাথমিকভাবে যা অনুমান করা হয়েছিল তার থেকেও ভয়াবহ কিছু ঘটে সেদিন। Reactor 4 এর Core পুরো explode করে, ফলে radiation বা তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। যা কিনা হিরোশিমা-নাগাসাকি পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তা থেকেও 400 গুন বেশি ছিল।
কিন্তু, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবহেলা, মিথ্যার পাহাড়, সত্যের বিস্মৃতি, জনকল্যাণ সমস্তকিছুর ফলে যে পরিমান লোক প্রাণ হারিয়েছিল তা আজও বিতর্কের বিষয়। অনুমান করা হয় সেই সংখ্যা ছিল প্রায় 90,000 থেকে 1 লাকের মতন। কিন্তু নিজেদের কুকর্ম ঢাকতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিওনের কমিউনিস্ট সরকারের তথ্য দেয় মোট মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র 31..!!
তিনজন মানুষের কথা এক্ষেত্রে বলতেই হবে, যারা না থাকলে হয়তো এখন হয়তো সেই তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হত না। তারা হলেন- Legasov, Khomyuk ও Boris... মূলত এই তিনজনের point of view দিয়ে সিরিজটি দেখানো হয়েছে।
এতটাই realistic তথা বাস্তবধর্মী এই সিরিজ, রীতিমতো অনুভব করেছি এক একটা সিন। যারা দেখেননি, তাড়াতাড়ি দেখে নেবেন। কারন, এরকম সিরিজ আর নেই।

0 Comments